বিচারাধীন এক বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু হল বনগাঁ উপ সংশোধনাগারে। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম তপন দাস (৪৫)। বাড়ি গাইঘাটার ফুলসরা এলাকায়। বনগাঁ থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

বনগাঁর মহকুমাশাসক তথা উপ  সংশোধনাগারের সুপার কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সকালে জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক ব্যক্তির  মৃত্যুর খবর পাই। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত করানো হবে। কী ভাবে মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই জানা যাবে, কী ভাবে মৃত্যু হBangaonয়েছে তপনের।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  সোমবার রাতে গাইঘাটা থানার পুলিশ গুলি-ভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ তপনকে গ্রেফতার করে। অটো চালাতেন তপন। মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার  নির্দেশ দেন। ২৩ এপ্রিল ফের তপনকে আদালতে হাজির করানোর দিন ছিল। তার আগেই এই ঘটনা। 

বনগাঁ মহকুমা আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী সমীর দাসের প্রশ্ন, ‘‘কেন বিচারধীন বন্দিদের জন্য জেলে উপযুক্ত নিরাপত্তা থাকবে না?’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘তপনের মৃত্যুতে জেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’ পুলিশ জানায়, এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে বনগাঁ থানার আইসি সতীনাথ চট্টরাজ, এসডিপিও (বনগাঁ) অশেষ বিক্রম দস্তিদার ঘটনার তদন্তে যান। তদন্তকারী অফিসারেরা দেখেন, জেলের মাটিতে শোয়ানো আছে তপনের দেহ। তাঁর গলায় গামছা জড়ানো, শরীরে কম্বল চাপা দেওয়া। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯  

তপনের পরিবারের তরফে থানায় কোনও অভিযোগ করা হয়নি। তাঁর জামাই কমল মণ্ডল বলেন, ‘‘উনি আত্মহত্যা করতে যাবেন কেন? আমরা ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত চাই।’’ মৃতের শ্যালক অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘‘জামাইবাবু খুবই সাদাসিধে মানুষ। তাঁকে মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে পারে না। জেলের মধ্যে তিনি আত্মহত্যাও করতে পারেন না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করব।’’