অনিয়মিত ক্লাসে আসেন কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যান— এই অভিযোগ তুলে বুধবার বিক্ষোভ দেখালেন কুলতলির বিআর অম্বেডকর কলেজের ছাত্রেরা। 

কলেজ সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে পরিচালন সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১১টা থেকে ৪টে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ভাবে কলেজে থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। কিন্তু তারপরেও অনিয়ম চলছিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার কলেজের প্রধান ফটক ৪টে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ শিউলি বসু দালাল। গেট বন্ধ থাকায় বেরোতে না পেরে অধ্যক্ষার ঘরে আসেন কয়েক জন শিক্ষিকা। সে সময়ে অধ্যক্ষের সামনেই ওই শিক্ষিকাদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রসংসদের কয়েক জন সদস্য।

কলেজ থেকে বেরিয়ে কুলতলি থানায় মৌখিক ভাবে দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান শিক্ষিকারা। পুলিশ একজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপরেই এ দিন কলেজ চত্বরে শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রেরা। শিউলি বলেন, ‘‘কিছু শিক্ষিকা পরিচালন সমিতির সিদ্ধান্ত মানছেন না। ঠিকঠাক ক্লাস নিচ্ছেন না। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি হচ্ছে।’’ ওই শিক্ষিকাদের পাল্টা বক্তব্য, কলেজে ‘দাদাগিরি’ চালাচ্ছে কিছু ছাত্র। তাতে অধ্যক্ষের প্রশ্রয় আছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। 

টিচার্স কাউন্সিলের সম্পাদক সঙ্ঘমিত্রা সরকার বলেন, ‘‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী আমাদের সপ্তাহে ১৬টি ক্লাস করার কথা। সেই জায়গায় ২২-২৩টি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। সময় না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল। বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা থাকলেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বারবার বায়োমেট্রিক বসানোর আবেদন জানিয়েও ফল হয়নি। কলেজে অরাজকতা চলছে।’’ ছাত্রদের একাংশ তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ব্যাপারে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।