চায়ের দোকানেই হাত বদল হত অস্ত্র। বৃহস্পতিবার রাতে বনগাঁর পুলিশ গ্রেফতার করেছে দোকানিকে। ধরা পড়েছে এক যুবকও।

পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় চায়ের দোকান চালাত তাপস খাঁ ওরফে ল্যাংড়া মামা। ওই চায়ের দোকানে বন্দরে কাজের সূত্রে আসা লোকজন হামেশাই ভিড় করেন। এরই মধ্যে কোনও কোনও আগন্তুক এসে একটু আড়াল খোঁজে। দোকানির সঙ্গে চোখের ইশারায় কথা হয়। সুযোগ বুঝে দোকানির হাত থেকে প্যাকেট চলে যায় আগন্তুকের হাতে। যা নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ওই ব্যক্তি পৌঁছে যায় বাংলাদেশে। প্যাকেটে অস্ত্র থাকত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে বনগাঁ থানার পুলিশ জয়পুর ফুলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাপসকে ধরে। ধৃত অন্য যুবকের নাম মানিক রায়। তাদের কাছ থেকে একটি সেভেন এমএম পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, হাঁসুয়া, রড উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বারাসত জেলার পুলিশ সুপার সি সুধাকর বলেন, ‘‘এক অস্ত্র পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে ওই কারবার সম্পর্কে  আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,  বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের কাছে খবর আসে, জয়পুর ফুলতলা এলাকায় কিছু সন্দেহজনক লোকজন জড়ো হয়েছে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে। পুলিশ অভিযান চালায়। বাকিটা পালিয়ে গেলেও দু’জন ধরা পড়ে যায়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই তাপস পেট্রাপোল বন্দরে তার চায়ের দোকানের আড়ালে অস্ত্র কেনাবেচার কারবার চালাচ্ছিল। পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষটি ক্র্যাচে ভর করে হাঁটাচলা করে। কেউই তাকে কখনও সে ভাবে সন্দেহের চোখে দেখেনি। চায়ের দোকানটি ক’দিন আগে অবশ্য ভাঙা পড়েছে। সেখানে নতুন বাজার তৈরি হওয়ার কথা।

এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘‘বিহারের মুঙ্গের থেকে চায়ের দোকানে আগ্নেয়াস্ত্র আনা হত। সেখান থেকেই দুষ্কৃতীদের কাছে তুলে দেওয়া হত। এক একটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য ২০-২২ হাজার টাকা।’’ সম্প্রতি পেট্রাপোল থানার পুলিশ তাপসের ছেলেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি-সহ গ্রেফতার করেছিল। 

বৃহস্পতিবার রাতে বনগাঁ থানার পুলিশ শহর এলাকা থেকে ৪টি  গুলি-সহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে৷ ধৃতদের নাম, বাবন মণ্ডল ও রাকিব মণ্ডল। কেন তারা গুলি সংগ্রহ করেছিল, কী মতলব ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।