বাদুড়িয়ায় বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন বাগুইআটির বাসিন্দা লোকনাথ সিংহ ওরফে বাপি (৪২)। রাত পার হতে মঙ্গলবার সকালে সেই বন্ধুর বাড়ির উঠোনেই মিলল বাপির ক্ষতবিক্ষত দেহ। 

বাপির বন্ধু আব্বাসউদ্দিন মণ্ডল ওরফে বাপ্পাকে আটক করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন বাপির বাড়ির লোকজন। 

ভাইকে খুনের মামলায় এর আগে গ্রেফতার হয়েছিল বাপি। সেই মামলায় আপাতত সে জামিনে রয়েছে। সোমবার অনেক রাত পর্যন্ত দুই বন্ধুকে উঠোনে বসে মদ্যপান করতে দেখেছিলেন পাড়ার লোকজন। রাতে চিৎকার চেঁচামেচিও শোনেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপ্পার বাড়ি বাদুড়িয়ার যদুরহাটি দক্ষিণ পঞ্চায়েতের দক্ষিণ শেরপুর গ্রামে। বাপি বাগুইআটির বাসিন্দা, পেশায় দিনমজুর। বাগুইআটিরই একটি মাংসের দোকানে কষাইয়ের কাজ করে বাপ্পা। ওই এলাকায় বাড়ি বাপির। সেখানেই দু’জনের আলাপ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপ্পার বাড়িতে তার এক ভাই এবং মা থাকেন। আর এক ভাই ছিল। ২০১৫ সালে জমিজমা বাটোয়ারা নিয়ে তার সঙ্গে বাপ্পার বচসা বেধেছিল। অভিযোগ, তখনই ভাইকে কুপিয়ে খুন করে বাপ্পা। 

বাপ্পার বাড়ির লোকেরা জানান, সোমবার বাপিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে আসে বাপ্পা। রাতে তারা উঠোনে মদের আসর বসায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের দিকে মোবাইল নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। অনেক রাত পর্যন্ত দু’জনের ঝগড়া চলে। এলাকার বাসিন্দারা সাধারণত বাপ্পা এবং তার পরিবারকে এড়িয়েই চলেন। ফলে রাতে গোলমাল বাধলেও কেউ সেখানে যাননি।

মঙ্গলবার ভোরে বাপ্পার বাড়ির উঠোনে বাপির ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা থানায় খবর দেন। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। বাড়ির পাশের একটি ঝোপে খোঁজ মেলে বাপ্পার। সেখান থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পুলিশ জানিয়েছে, অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে বাপ্পা। পুলিশ জানিয়েছে, ধারাল কিছু দিয়ে বাপিকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।