বয়স থাবা বসিয়েছে কারও শরীরে। কেউ বা চলাফেরা করতে পারেন না। প্রায় দু’দশক ধরে ওই ৪১ জনের ঠিকানা, সালানপুরের মাদার টেরিজা মিশনারিজ় অব চ্যারিটির শান্তিনগর আশ্রম। এত দিন তাঁদের আক্ষেপ ছিল, দেশের নাগরিক, কিন্তু ভোট দেওয়া হয় না। কারণ, ভোটার তালিকায় নাম নেই। সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে বিডিও-র নজরে পড়ে বিষয়টি। অবশেষে ওই ৪১ জন আবাসিকেরাই নাম উঠেছে ভোটার তালিকায়।

সালানপুর ব্লকের আল্লাডি পঞ্চায়েতের কালীপাথর গ্রামে মাদার টেরিজার তত্ত্বাবধানে এই আশ্রমটি তৈরি হয়। প্রায় দু’দশক আগে এসেছিলেন ওই ৪১ জন, এখানের কুষ্ঠ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য। দীর্ঘ চিকিৎসায় তাঁরা সবাই এখন পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু, তাঁদের বাড়ি নিয়ে যেতে আসেননি কেউ, জানান সিস্টারেরা। ফলে সবারই এখন স্থায়ী ঠিকানা, এই আশ্রম। ওই আবাসিকেরা জানান, ইচ্ছে থাকলেও এত দিন ভোট দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি উন্নয়নমূলক কাজকর্ম তত্ত্বাবধানের জন্য আল্লাডি পঞ্চায়েতের নানা এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিডিও (সালানপুর) তপনকুমার সরকার। সেই সময়েই এই আশ্রমের আবাসিকদের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন বিডিও। তপনবাবু বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজ করতে গেলে আশ্রমের তরফে ওই আবাসিকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলানোর ব্যবস্থা করার জন্য আর্জি জানানো হয়। তালিকায় ওঁদের নাম ওঠায় ভাল লাগছে।’’ তিনি আরও জানান, ভোটের দিন নির্দিষ্ট সময়ে আবাসিকদের বুথে নিয়ে যেতে গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। আশ্রমের প্রধান সিস্টার ডেনিটজা বলেন, ‘‘বিডিও নিজেই উদ্যোগী হয়ে সব ব্যবস্থা করেছেন। আবাসিকেরা প্রথম ভোট দিতে পারবেন ভেবে ভাল লাগছে।’’

খুশি আবাসিকেরাও। ওই আশ্রমে গিয়ে দেখা গেল, সকালের খাবার খেয়ে আশ্রমের নানা কাজে হাত লাগিয়েছেন গুলশান শেখ, ডোমেন ডিকোস্টা-সহ ওই আবাসিকেরা। অশীতিপর গুলশান জানান, প্রায় দু’দশক আগে এই আশ্রমে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘ভোটাধিকার প্রয়োগ করব, এটা খুবই আনন্দের।’’ অসুস্থতার কারণে হাঁটাচলা করতে পারেন না ডোমেন। তিনিও বলেন, ‘‘ভোটার তালিকায় নাম ওঠার পরেও চিন্তা ছিল, কী ভাবে বুথে যাব। প্রশাসন গাড়ির ব্যবস্থা করবে শুনে সেই চিন্তাও দূর হয়েছে।’’

আসানসোলের অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম রায়ও এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘‘বিডিও-র (সালানপুর) বিডিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভোট গ্রহণকেন্দ্রে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।’’