বিকেলে নতুন জামা-প্যান্ট পরে পাড়ার মন্দিরে গিয়েছিল বছর ছয়েকের ছেলেটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিৎকার, চেঁচামেচি। গলায় গভীর ক্ষত নিয়ে মন্দির থেকে ছুটতে ছুটতে এসে বাড়ির কাছেই লুটিয়ে পড়ে সে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি কাটোয়ার আলমপুর গ্রামের শুভম ঘোষকে। বুধবার, একাদশীর দিনে ছেলেকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন বাবা সুকান্ত ঘোষ।

ওই ঘটনার পর থেকে থমকে গিয়েছে আলমপুর গ্রামের হরিসভাতলা বারোয়ারি পুজোও। খুলে নেওয়া হয়েছে আলো, মাইক। তবে কী করে ওই ঘটনা ঘটল, সে রহস্যের কিনারা হয়নি। পুলিশের দাবি, বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে তদন্ত করা হবে। কাটোয়া হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও জানান, গলায় গভীর ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই ওই বালকের মৃত্যু হয়েছে। ‘নেক টিস্যু’ সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

শুভমের পরিবারের দাবি, শনিবার ওই ঘটনার পরে প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছিল মন্দিরের কাছে টিনের কৌটো জাতীয় কিছু চাপা দিয়ে চকোলেট বোমা ফাটাতে গিয়েই বিপত্তি হয়েছে। বোমা ফাটার তীব্রতায় পাত্রের ভাঙা অংশ গলায় গেঁথে গিয়ে শুভমের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনও বোমা ফাটার চিহ্ন পায়নি পুলিশ। মা মাম্পি ঘোষ বলেন, ‘‘ছেলের বাজিতে খুব ভয় ছিল। ক্যাপ-বন্দুকও নেয়নি। নতুন জামা-প্যান্ট, কাজলের টিপ পরিয়ে মন্দিরে পাঠিয়েছিলাম। চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি খুড়শ্বশুরের কোলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে।’’ শুভমের এক দাদু রবীন্দ্রনাথ ঘোষও জানান, নাতি মন্দির থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির কাছে এসে ‘বড়মা রক্ত রক্ত’ বলে লুটিয়ে পড়ে। তাঁরা প্রথমে গ্রামের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। গলার নলি কেটে গিয়েছে জানার পরে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শুভমকে।এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ওই সময় মণ্ডপে বড় কেউ ছিলেন না। কেউই কিছু দেখেননি। তবে মন্দিরে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। সুকান্তবাবুর দাবি, ‘‘পুলিশ তদন্ত করে দোষীকে গ্রেফতার করুক।’’