বিজেপি করায় তাঁকে উত্ত্যক্ত করা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন কাটোয়ার খেপাকালীতলা বাসিন্দা এক মহিলা। অনিমা গুহ নামে ওই মহিলার দাবি, পাড়ার ক্লাবের ছেলেরা তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করেছে। যদিও ওই এলাকার বাসিন্দাদের পাল্টা দাবি, ওই মহিলা অসামাজিক কাজকর্ম চালান বাড়ি থেকে। তাঁর বিরুদ্ধে গণসাক্ষর করা অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছেন তাঁরা।

কাটোয়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনিমা গুহর দাবি, উনিশ বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে বাপেরবাড়ি খেপাকালীতলায় থাকেন তিনি। বিএসএনএল অফিসে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে কাজও করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পাড়ার একটি ক্লাবের সদস্যদের অত্যাচারে গত ২০ জানুয়ারি থেকে ছেলে-মেয়ে-সহ বাড়ি ছাড়া তিনি। নিজেকে বিজেপি কর্মী দাবি করে অনিমাদেবী বলেন, ‘‘রাস্তাঘাটে বাইক নিয়ে আমার পিছু নেয় ক্লাবের ছেলেরা। ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা করুণা চট্টোপাধ্যায়কেও সোমবার মারধর করা হয়েছে।’’ ২৩ জানুয়ারি কাটোয়া থানায় জেনারেল ডায়েরিও করেন তিনি। পরে জেলাশাসককেও লিখিত অভিযোগ করেন।

যদিও ওই ক্লাবের সদস্যরা জানান, অবৈধ ভাবে বাড়ি তৈরি করে সেখানে মদ বিক্রি-সহ নানা অসামাজিক কাজকর্ম করেন ওই মহিলা। স্থানীয় কিছু দু্ষ্কৃতীদের আশ্রয়ও দেন। বিএসএনএল-এর কাটোয়া কার্যালয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছেন তাঁরা। পুরপ্রধানকেও জানিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রবীর দাস, রবীন্দ্রনাথ দাসদের অভিযোগ, ‘‘ক্লাবের ছেলেরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। উনি বরং পাড়ার পরিবেশ নষ্ট করছেন। ওঁকে বারণ করা হলে উনি খুন, মিথ্যা মামলা ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।’’

পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি বিজেপি করেন কি না জানি না। তবে উনি যে বাড়িতে বসবাস করছেন সেই বাড়িটি অবৈধ ভাবে তৈরির অভিযোগে ওঁর পড়শি হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্টের রায়ে ওই বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে নিম্ন আদালতে মামলা করলেও ওঁরা হেরে যান। পর্যাপ্ত মহিলা কনস্টেবল দিতে থানায় অনুরোধ করা হয়েছে। তা পেলেই ওঁর বাড়ির অবৈধ অংশ আদালতের অনুমতিতে ভেঙে ফেলবে পুরসভা।’’ ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে কোনও অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি। বিজেপির জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘উনি বিজেপি করেন বলেই শুনছি। দল ওঁর পাশে আছে।’’