কারখানা চত্বরের বাইরে রাস্তার ধারে চলছে ‘স্যান্ডব্লাস্টিং’। তার জেরে ধুলো উড়ছে। যন্ত্র দিয়ে রঙের কাজও হচ্ছে সেখানেই। ফলে, দূষণ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন পথচারীরা। সেই খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুর্গাপুরে অভিযান চালাল দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি কারখানায় এই রকম কাজ চলতে দেখা গিয়েছে। কারখানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের সঞ্জীব সরণিতে একটি বেসরকারি ‘স্ট্রাকচারাল ফেব্রিকেটর’ কারখানা রয়েছে। সেটির গেটের বাইরে রাস্তার ধারে ফাঁকা জায়গায় চলছে স্যান্ডব্লাস্টিংয়ের কাজ। এই পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে প্রবল চাপ তৈরি করে তীব্র বেগে পাইপ দিয়ে বালি বেরিয়ে আসে। বালির সঙ্গে ঘর্ষণে ধাতব বস্তুর গায়ের মরচে বা অন্য আস্তরণ তোলা হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দশ-বারো দিন ধরে এই কাজ চলছে। এর জেরে ধুলো উড়ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে সেই ধুলো চোখে-মুখে ঢুকে সমস্যা হচ্ছে। সঞ্জীব ঢালি নামে এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘নাক দিয়ে ধুলো ঢুকছে। চোখেও সমস্যা হচ্ছে। ঢাকা জায়গায় এই কাজ করা উচিত।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, যন্ত্রের সাহায্যে কারখানার বিভিন্ন সামগ্রী রং করার কাজও হয় প্রকাশ্যেই। চার দিকে রং ছিটকে পড়ে। রাসায়নিক গন্ধে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে কল-কারখানার দূষণ থেকে শ্বাসকষ্টের প্রকোপ দিন-দিন বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ। তার পরেও প্রকাশ্যে এমন কাজ করার কারণ জানতে চাওয়া হলে কারখানার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জানি, এটা ঠিক নয়। কিন্তু ভিতরে তেমন বড় ছাউনি বা জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে সাময়িক ভাবে বাইরে কাজ হয়েছে।’’ 

প্রকাশ্যে স্যান্ডব্লাস্টিংয়ের অভিযোগ পেয়ে এ দিন অভিযানে নামে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ। সঞ্জীব সরণির ওই কারখানা ছাড়া আরও দু’টি কারখানাকে এ ভাবে কাজ করতে দেখা গিয়েছে বলে পর্ষদের কর্মীরা জানান। তা বন্ধ করে কারখানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। একটি কারখানার তরফে অরুণ খেতান বলেন, ‘‘পর্ষদের কর্মীরা নিষেধ করার সঙ্গে-সঙ্গে কাজ বন্ধ করা হয়েছে।’’ অন্য কারখানাগুলিরও আশ্বাস, এর পরে ঢাকা জায়গায় এই কাজ করা হবে।