• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভাঙচুর, শ্লীলতাহানির নালিশে ক্ষোভ ফাঁড়িতে

bard
ওয়ারিয়া ফাঁড়ির সামনে জমায়েত। নিজস্ব চিত্র

বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, এই অভিযোগে বুধবার সকালে দুর্গাপুরের গোপালমাঠের বাসিন্দা, পেশায় ঠিকাদার বাবুরাম দাস নামে এক ব্যক্তি-সহ আরও কয়েকজন ওয়ারিয়া ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখালেন। পাশাপাশি, বাবুরামবাবুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই ফাঁড়িতেই বিকেলে বিক্ষোভ দেখান ডিএসপি-র এক মহিলা ঠিকাকর্মী ও তাঁর সঙ্গী মহিলারা।

নিজেকে আইএনটিটিইউসি কর্মী দাবি করে বাবুরামবাবু পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ বেশ কয়েকজন তাঁর বাড়িতে রড, লাঠি নিয়ে চড়াও হয়। আলো ভেঙে দেওয়া হয়। প্রহৃত হন তাঁর দাদা। তাঁর বয়স্ক বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি, যাওয়ার আগে তাঁকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাবুরামবাবু।

সংবাদমাধ্যমের কাছে বাবুরামবাবুর অভিযোগ, ‘‘আইএনটিটিইউসি নেতা নেতা প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীরা আমার বাড়িতে হামলা চালায়।’’ যদিও দুর্গাপুর মেয়র পারিষদ (নিকাশি) প্রভাতবাবুর দাবি, “ভিত্তিহীন অভিযোগ। মঙ্গলবার আমি কলকাতায় কাজে ব্যস্ত ছিলাম।”

পাশাপাশি, পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বাবুরামবাবু শেখ রাজু নামে ডিএসপি-র এক আইএনটিটিইউসি নেতার নাম উল্লেখ করেছেন। যদিও শেখ রাজুরও দাবি, “মিথ্যা অভিযোগ। বাবুরামবাবুর সঙ্গে আইএনটিটিইউসি-র কোনও যোগই নেই।” কিন্তু কেন এই ‘কোন্দল’ বা ‘হামলা’? বাবুরামবাবুর দাবি, ডিএসপি-র এক ঠিকাদারের কাছে কয়েকজন শ্রমিককে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা কাজ ফিরে পান। তিনি বলেন, ‘‘সেই শ্রমিকদের কাছ থেকে ‘কাটমানি’ না পাওয়ার আতঙ্ক থেকেই আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাতবাবু ও বাবুরামবাবু, দু’জনেরই বাড়ি গোপালমাঠে। দু’জনের মধ্যে এর আগেও বেশ কয়েকবার ‘বিবাদের’ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৭-য় প্রভাতবাবুর বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ করেন বাবুরামবাবু। পাশাপাশি, ২০১৮-র ৫ ডিসেম্বর তৃণমূলের তৎকালীন জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের সভায় ঢুকে প্রভাতবাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রভাতবাবুকে দল থেকে বার করে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বাবুরামবাবু ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। তবে, বাবুরামবাবুর বিরুদ্ধে সে বার দলের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা ও জোর করে ঢুকে সভা বানচাল করার লিখিত অভিযোগ করে তৃণমূল। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রভাতবাবু।

ঘটনার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ার জন্য আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে ফোন করা হলেও তিনি উত্তর দেননি।

এ দিকে, বিকেলে কারখানা থেকে ফেরার সময়ে বাবুরাম ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে ওই মহিলা ঠিকাকর্মী ও তাঁর সঙ্গী মহিলারা মারধর, শ্লীলতাহানি, ব্যাগ থেকে টাকা বার করা ও রুপোর হার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওয়াড়িয়া ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখান। ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। বাবুরাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘সকালে অভিযোগ জানিয়েছি। তাই আমাকে ফাঁসাতে পাল্টা মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।’’

পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন