তোলা আদায় করে থাকলে তা ফেরাতে হবে, নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সতর্ক করেছেন দলের নেতা-কর্মীদের। এর পরেই আসানসোল সিটি বাসস্ট্যান্ডে রীতিমতো রসিদ ছাপিয়ে নিয়মিত টাকা আদায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বাস মালিকদের একাংশ।

ওই বাস মালিকদের অভিযোগ, এক দল লোক প্রতিদিনই তৃণমূলের নাম করে টাকা আদায় করে চলেছে। এ বিষয়ে দলের নেতাদের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেও কোনও লাভ হচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি। দলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র নাম করে ওই বাসস্ট্যান্ডে তোলাবাজি চলছে, এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন বলে জানান তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা চেয়ারম্যান ভি শিবদাসন। এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস তাঁর।

কী ভাবে চলছে টাকা আদায়? বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরাকর-দুর্গাপুর রুটের বাসগুলি থেকে অপেক্ষাকৃত কম টাকা নেওয়া হলেও ভিন্‌ জেলা ও ভিন্‌ রাজ্যে যাতায়াতকারী বাসগুলি থেকে লাগামছাড়া তোলা আদায় করা হয়। কখনও আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত ‘আসানসোল সাবডিভিশনাল মোটর ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’-এর নামে, আবার কখনও ‘আসানসোল বাস অ্যাসোসিয়েশন’-এর নামে রসিদ ছাপিয়ে তোলা আদায় করা হচ্ছে। বাস মালিকেরা অভিযোগ করেন, রসিদগুলিতে দু’টাকা বা পাঁচ টাকা লেখা থাকলেও আদতে বাস পিছু ৫০-৭৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

বাস মালিকদের একাংশের আরও অভিযোগ, খরচ পোষাতে দূরপাল্লার বাসগুলিতে ছাদে পণ্য পরিবহণ করা হয়। এলাকার কিছু লোক নিজেদের তৃণমূলের এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ওই সব বাসের কর্মীদের কাছে মোটা টাকা আদায় করে। তা না দিলে পণ্য পরিবহণ করতে দেওয়া হয় না। ওই বাস মালিকদের দাবি, ব্যবসার স্বার্থে শাসকদলের লোকজনকে না চটানোর জন্য তাঁরা এত দিন এই টাকা দিয়ে এসেছেন। বীরভূম, বোলপুর, বহরমপুর রুটের বিভিন্ন বাসের মালিকের কথায়, ‘‘আমরা ভয়ে কোনও প্রতিবাদ করি না। দাঁতে-দাঁত চেপে টাকা দিতে বাধ্য হই।’’ 

২০১৫ সালে আসানসোল সিটি বাসস্ট্যান্ডে বাস মালিকদের কাছে থেকে জোর করে তোলা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ নবান্ন পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সে বার কড়া পদক্ষেপ করেছিলেন আইএনটিটিইউসি-র জেলা চেয়ারম্যান শিবদাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আসানসোল দক্ষিণ থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। আসানসোলের বড় বাসের মালিকদের সংগঠনের সম্পাদক প্রকাশ মণ্ডল বলেন, ‘‘নামগোত্রহীন এক দল এজেন্টের তোলাবাজিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছি। এ সব না থামলে বাস চালানো বন্ধ করতে হবে।’’ বাস মালিকদের অনেকের হুঁশিয়ারি, জোর করে টাকা আদায় অবিলম্বে বন্ধ না হলে তাঁরা নবান্নে অভিযোগ জানাবেন।

ফের আইএনটিটিইউসি-র নামে রসিদ ছাপিয়ে বাসস্ট্যান্ড থেকে তোলা আদায় প্রসঙ্গে শিবদাসনের বক্তব্য, ‘‘এই অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। খোঁজ নিয়ে দেখছি। দলে তোলাবাজির কোনও জায়গা নেই।’’