হাসপাতাল চত্বরে এক অটোচালককে কোপানোর অভিযোগ উঠল দুর্গাপুরে। সোমবার রাতে এই ঘটনার পরে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাসপাতালের সুপার দেবব্রত দাস জানান, পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় নামে অটোচালক ওই যুবক অভিযোগ করেন, দিন চারেক আগে তাঁর এক বন্ধুর গাড়ি থেকে রাহুল পাসোয়ান নামে ওই যুবককে ব্যাটারি চুরি করতে দেখে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। সোমবার রাতে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাত্রী পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে স্ট্যান্ডে অটো রাখেন। অয়নের অভিযোগ, রাহুলকে তিনি অটোর ব্যাটারি চুরি করতে দেখেন। তিনি তাড়া করলে সে পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে মহকুমা হাসপাতালের সামনে তাকে দেখতে পেয়ে তিনি দাঁড়িয়ে পড়েন। বেগতিক বুঝে রাহুল হাসপাতালের মর্গের সামনে চলে যায়। তিনি পিছু নেন বলে দাবি অয়নের।

অয়ন অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে রাহুল ফোন করে তার দাদা ও এক আত্মীয়কে ডাকে। তারা আসার পরে তিন জনে তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হাত বেঁধে ফেলা হয়। এর পরে চপারের কোপ দেওয়া হয় তাঁর মাথায়। অয়নের দাবি, বল্লভপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী, রাহুলের এক দাদা তাঁর মাথায় কোপ মারে। তার পরেই তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

পুলিশ জানায়, রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে বাকিদের খোঁজ চলছে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে আসেন স্থানীয় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীপেন মাজি। তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বারবার এলাকায় চুরি, ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠছে। বিধাননগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।’’

হাসপাতাল চত্বরে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত চিকিৎসক, নার্স, কর্মী থেকে রোগী ও রোগীর পরিজনেরা। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, রাতে অনেক বহিরাগত লোকজন হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করে। হাসপাতালের সুপার দেবব্রত দাস বলেন, ‘‘মর্গের সামনে অসামাজিক কাজে জড়িত লোকজনের ভিড় হয় বলে শুনেছি। এই ঘটনার পরে রাতে হাসপাতালে টহল বাড়ানোর জন্য পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করব।’’