সিটু অনুমোদিত সংগঠন কোলিয়ারি মজদুর সভার (সিএমএসআই) কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ইসিএলের কুনস্তরিয়া এরিয়ার অমৃতনগর কোলিয়ারির অদূরে ওই সংগঠনের শাখা কার্যালয়টি থেকে লাল পতাকা নামিয়ে গেরুয়া পতাকা টাঙানো হয় বলে অভিযোগ। পরে কার্যালয়টিতে গেরুয়া রংও করা হয়।

সিএমএসআই-এর ওই শাখার সম্পাদক গঙ্গাদয়াল সিংহের দাবি, তিনি লোকসভা ভোটের পরে আরএসএস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন বিএমএসের সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁকে শাখা সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, “আমি ছাড়া আর কেউ এখানে সিটুতে সক্রিয় ছিলেন না। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে প্রায় সকলেই সিটু ছেড়ে গিয়েছেন। যে ক’জন বাকি ছিলেন তাঁরাও আমার সঙ্গে বিএমএসে যোগ দিয়েছেন। তাই কার্যালয়টি এখন বিএমএসের। তা দখল করেনি কেউ।”

স্থানীয় বিজেপি নেতা সুবোধ যাদবের দাবি, তাঁরা সকলেই আগে সিপিএমের কর্মী ছিলেন।  প্রায় দু’দশক আগে এলাকায় ক্লাব তৈরি করা হয়েছিল। বছরখানেকের মধ্যে সেটি সিটু দখল করে কার্যালয় তৈরি করে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘২০১১ সালে তৃণমূল সিটু কার্যালয়ে ভাঙচুর চালালেও আমরা একজোট হয়ে দখল করতে বাধা দিই। পরে আমাদের সঙ্গীরা নানা কারণে তৃণমূলের রোষের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কখনও সিপিএম বা সিটু নেতৃত্ব তাঁদের পাশে দাঁড়াতে আসেননি। তাতে অনেকেরই মনোবল ভেঙে যায়। শেষে বছরখানেকের মধ্যে অনেকেই সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।’’

সুবোধবাবুর দাবি, লোকসভা ভোটের পরে এলাকার অনেক বাসিন্দাও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা সিটু কার্যালয় দখল করেছি বললে ভুল হবে। সিটুর কোনও সদস্য না থাকায় কার্যালয়টি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে ছিল। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মতিতেই আমরা সেখানে বিজেপি কার্যালয় তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাতে এলাকাবাসীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণে আমদের সক্রিয়তা বাড়াতে পারব।”

সিএমএসআই-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কিশোর ঘটকের অভিযোগ, “দখলের রাজনীতি করছে বিজেপিও। আমরা রানিগঞ্জ থানায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।” তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি তথা আসানসোল পুরসভার মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির প্রতিক্রিয়া, “লোকসভা ভোটের আগে থেকেই বাম-রাম মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। সেই সূত্রেই সিপিএমের সহযোগিতা নিয়ে বিজেপি কার্যালয় চালু করল।”