বাড়ির পাশে খড় রাখার ঘরে পড়ে থাকা বোমা ফেটে জখম হলেন এক মহিলা। মঙ্গলবার অণ্ডালের ডায়মন্ডমোড় মাঝিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহত মহিলাকে রানিগঞ্জের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। বম্ব স্কোয়াডের সদস্যেরা কুকুর নিয়ে এসে ঘটনাস্থলে তদন্ত করে। কী ভাবে বোমাটি সেখানে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎ তীব্র আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। আশপাশের লোকজন গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ফুলমুনি রায় নামে ওই মহিলা। তাঁর সঙ্গে থাকা দু’টি গরুও জখম হয়েছে। প্রতিবেশীরা পুলিশের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করে রানিগঞ্জে নার্সিংহোমে নিয়ে যান। তার দুই পা ও একটি হাত জখম হয়েছে বলে নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে।

নার্সিংহোমের আইসিইউ-তে ভর্তি ফুলমুনিদেবী জানান, তাঁদের বাড়ির পাশে নিজেদের একটি পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে, যেখানে খড় ডাঁই করে রাখা থাকে। তাঁর মা ঝুড়িতে করে সেই খড় নিয়ে এসে কাটার সময়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, “খড় কাটতে গিয়ে ঝুড়িতে একটি কৌটো দেখতে পাই। ছোটদের খেলনা কোনও ভাবে খড়ের গাদায় চলে গিয়েছিল ভেবেছিলাম। ওটা পাশে ছুড়ে ফেলতেই ফেটে যায়। আমি লুটিয়ে পড়ি। প্রথমে ভেবেছিলাম বাঁচব না।” 

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় মাসখানেক আগে অবৈধ কয়লার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’টি দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলমাল শুরু হয়। দিন পনেরো আগেও তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এই বিবাদের জন্যই এলাকায় বোমা মজুত করা হয়েছে বলে বাসিন্দাদের অনেকের আশঙ্কা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘পরিত্যক্ত ওই ঘরে খড়ের গাদায় হয়তো বোমা লুকিয়ে রেখেছিল দুষ্কৃতীরা। সেটি সরাতে দেরি করায় এমন কাণ্ড হয়েছে।’’ বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশ তল্লাশি চালালে এলাকা থেকে আরও বোমা মিলতে পারে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরেই ফুলমুনিদেবীর ঘরে এক জন কনস্টেবল ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে মোতায়েন করা হয়েছে। খড়ের গাদা-সহ আশপাশের এলাকায় আর কোথাও বোমা আছে কি না, তা দেখতে বম্ব স্কোয়াডের প্রতিনিধিরা তল্লাশি চালিয়েছেন। পুলিশের অনুমান, যে বোমাটি ফেটেছে, সেটি হাতে তৈরি কৌটো বোমা। খড় যেখান থেকে কিনে আনা হয়েছিল সেখান থেকে খড়ের সঙ্গে সেটি এসেছিল কি না, তা-ও দেখা হচ্ছে। আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্রপ্রকাশ সিংহ বলেন, “পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত  মামলা রুজু করেছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”