বাস চালিয়ে আয় বাড়াতে চালু করা হয়েছে ‘সেলিং এজেন্ট’ ও ‘ফুল ফ্রাঞ্চাইজি’র ব্যবস্থা। কিন্তু তার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এসবিএসটিসি) দুর্গাপুর ডিপোয়। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি পাঠিয়ে এই অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন এক সেলিং এজেন্ট।

রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিষয়টি নিগমের চেয়ারম্যান জানাতে পারবেন। চেয়ারম্যান তমোনাশ ঘোষ আবার জানান, বিশদ বলতে পারবেন ট্র্যাফিক ম্যানেজার। ট্র্যাফিক ম্যানেজার শুভেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘সংস্থার স্বার্থে যা করার তা করা হয়েছে। কোনও অনিয়ম হয়নি।’’

আশানুরূপ আয় না হওয়ায় এই ‘সেলিং এজেন্ট’ পদ্ধতি চালু করেছে এসবিএসটিসি। নিয়ম অনুযায়ী, রুটে কিলোমিটার পিছু ‘বেস’ মূল্য ঠিক করা হয়। যে বেসরকারি সংস্থা সর্বাধিক দর দেয়, তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। টিকিট বিক্রির টাকা দিনের শেষে নিগমে জমা দেয় সেই সংস্থা। বাকি টাকা পায় কমিশন হিসেবে। এই পদ্ধতিতে বাসের চালক দেওয়া হয় সংস্থার তরফে। কন্ডাক্টার থাকেন বেসরকারি সংস্থার। এ ছাড়া প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে কিছু বাসের ‘ফুল ফ্র্যাঞ্চাইজি’ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে চালক, কন্ডাক্টার, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার। এসবিএসটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে বাস চালিয়ে আয় হত কিলোমিটার পিছু ১২-১৩ টাকা। নতুন পদ্ধতিতে তা দ্বিগুণের                      বেশি হয়েছে।

বাঁকুড়ার কেরানিবাঁধের বাসিন্দা শান্তিময় দাস টেন্ডারের মাধ্যমে প্রতি কিলোমিটার ২৭ টাকা দর দিয়ে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই দুর্গাপুর-ঝাড়গ্রাম রুটের ‘সেলিং এজেন্ট’ নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী সংস্থার কাছে ১৫ হাজার টাকা জমা রেখে ২৩ জুলাই বাস চালাতে শুরু করেন। শান্তিময়বাবুর দাবি, কিছু দিন পরে স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি দরখাস্ত দিয়ে বাসটি বন্ধ রাখেন। কিন্তু বেআইনি ভাবে বাসটি তাঁর হাত থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে, ২৩ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শান্তিময়বাবু জানান, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে অসুস্থ। বাসটি ফেরতের আর্জি জানিয়ে একাধিক বার নিগমের কার্যালয়ে দরবার করেছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ‘‘ট্র্যাফিক ম্যানেজার বাসটি বিনা টেন্ডারে অরুণকুমার সানিগ্রাহী নামে এক জনকে দিয়ে দেন। চেয়ারম্যান মেদিনীপুর-আসানসোল রুটে একটি বাস চালানোর অনুমোদন দেন। কিন্তু সেটিও দেওয়া হয়নি। তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন জানানোয় ট্র্যাফিক ম্যানেজার হুমকি দিয়ে তা প্রত্যাহারে বাধ্য করান।’’

এসবিএসটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, অরুণবাবু একাই সাতটি রুটে ‘ফুল ফ্র্যাঞ্চাইজি’ এবং পাঁচটি রুটে ‘সেলিং এজেন্ট’ হিসেবে বাস চালাচ্ছেন। এ ছাড়াও সংস্থার বিভিন্ন ডিপোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। সংস্থার কর্মী-আধিকারিকদের একাংশের অভিযোগ, পক্ষপাত করে অরুণবাবুর হাতে এতগুলি রুট ও ডিপোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শান্তিময়বাবুর বাসটিও বিনা টেন্ডারে তাঁকে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে। পক্ষপাতের অভিযোগ উড়িয়ে অরুণবাবুর অবশ্য বক্তব্য, ‘‘উনি দীর্ঘদিন বাসটি বন্ধ রেখেছিলেন। ওঁর দরেই বাসটি আমি চালাচ্ছি।’’

ট্র্যাফিক ম্যানেজার শুভেন্দুবাবুর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘শান্তিময়বাবু বাস নিয়ে ঠিকমতো চালান না। জঙ্গলমহলের গুরুত্বপূর্ণ রুট নিগম বন্ধ রাখতে চায় না। তাই বাসটি অন্য এক জনকে দিয়ে দেওয়া হয়।’’ কিন্তু অরুণবাবুকে আরও বাস কেন? ট্র্যাফিক ম্যানেজার বলেন, ‘‘তিনি সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন রুটে যাত্রীর সংখ্যা বাড়িয়েছেন।’’