কোলফিল্ড এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস প্রভৃতি ট্রেনে এলএইচবি কোচ চালু হয়েছে। কিন্তু এর জেরে কামরার ভিতরে জায়গা কমে গিয়েছে। এমনই অভিযোগ কলকাতাগামী নিত্যযাত্রীদের। ইতিমধ্যেই রেলের বিভিন্ন স্তরে চিঠি দিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, সমস্যার সমাধান হয়নি।

আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতি দিন কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী কলকাতায় যাতায়াত করেন। বিকেলে কাজ শেষে তাঁরা ফিরেও আসেন। যাওয়া-আসার সময়ে তাঁরা কোলফিল্ড এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে চড়ে যাতায়াত করেন।

নিত্যযাত্রীরা জানিয়েছেন, আগে এই ট্রেনগুলিতে আইসিএফ কোচ ছিল। আসন সংখ্যা ছিল ১০৮। নতুন এলএইচবি কোচে আসন কমে হয়েছে ১০২। আসন সংখ্যা খুব না কমলেও কামরার ভিতরে আসনের বিন্যাস নিয়ে অভিযোগ রয়েছে তাঁদের। নিত্যযাত্রীরা জানান, দু’দিকের আসনের মাঝে মাত্র দেড় ফুট ফাঁকা জায়গা রয়েছে। অসংরক্ষিত কামরাগুলিতে যে কেউ টিকিট কেটে ট্রেনে উঠতে পারেন। ফলে কামরায় ভিড় হয় ব্যাপক। এক দিক থেকে অন্য দিকে যাতায়াতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। হাতে ব্যাগ থাকলে সমস্যা আরও বাড়ে। এ সব নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অশান্তিও হচ্ছে।

কামরায় দু’টি করে দরজা রয়েছে। কিন্তু দরজাগুলি যতটা দরকার, ততটা চওড়া নয় বলে অভিযোগ। ফলে ট্রেন থামলে ওঠা-নামার সময়েও সমস্যা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দাবি, দরজা আরও চওড়া করা হোক অথবা আইসিএফ কোচের মতো একটি অতিরিক্ত দরজার ব্যবস্থা করা হোক। নতুন এই কোচগুলিতে যে ‘ব্রেক সিস্টেম’, ব্যবহার করা হয়েছে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে তা নিয়েও। তাঁদের দাবি, দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময়ে ব্রেক কষলে আচমকা ট্রেন থেমে যাওয়ায় যাত্রীরা টাল সামলাতে না পেরে একে অপরের ঘাড়ে পড়ে যাচ্ছেন।

নিত্যযাত্রী দেবাশিস দাস, সুশান্ত মণ্ডল, সমীর কুণ্ডু’রা জানান, তাঁরা ‘কোলফিল্ড এক্সপ্রেস’-এ চেপে ফি দিন হাওড়া যান। বিকেলে কাজ সেরে কোলফিল্ডেই ফেরেন। তা না পেলে অগ্নিবীণা ধরেন। দু’টি ট্রেনেই এলএইচবি কোচ চালু করেছে রেল। দেবাশিসবাবু বলেন, ‘‘ট্রেনে ওঠা, ভিতরে ঢোকা, ভিড় ঠেলে আসন পর্যন্ত পৌঁছনো, সবেই সমস্যা হচ্ছে। পুরনো কোচ ফেরানোর জন্য রেলমন্ত্রী, রেলবোর্ড, ডিআরএম থেকে শুরু করে রেলের সব স্তরে লিখিত আর্জি জানিয়েছি।’’ যাত্রীদের আরও অভিযোগ, নতুন কোচের জানলাও চওড়া নয়।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে এলএইচবি কোচের ব্যবহার শুরু হয়েছে। চলতি আর্থিক বর্ষের মধ্যেই দেশের সর্বত্র উন্নতমানের এলএইচবি কোচ চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রেল। রেলের দাবি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকরী নতুন এই কোচ ব্যবহারে রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। শিল্পাঞ্চলের নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে  আসানসোল ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক রাহুল রঞ্জন বলেন, ‘‘নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলএইচবি কোচ চালু করা হয়েছে। তার জন্য কামরার নকশায় কিছু পরিবর্তন করেছে। যাত্রীরা অভিযোগ জানালে, তা সংশ্লিষ্ট জায়গায়                                                            জানানো হবে।’’