দু’দিনের চেষ্টায় পরিত্যক্ত খনি থেকে উদ্ধার হল বধূর দেহ। জামুড়িয়ার নিউ সাতগ্রামে রবিবার বিকেলে পুলিশের সাহায্যে দেহটি উদ্ধার করে ইসিএলের উদ্ধারকারী দল। ওই বধূকে খুনের অভিযোগে ধৃত দেওরকে এ দিন আসানসোল আদালতে তোলা হলে দশ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বোগড়াচটি নিউ সাতগ্রাম নিচু ধাওড়ায় স্বামী রাজীব গোপকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতেন সরিতা গোপ। তাঁর বাবা বচ্চন যাদব  প্রাক্তন খনিকর্মী। অদূরেই শ্বশুরবাড়ি সরিতার। ২৫ মে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর বাবা শ্রীপুর ফাঁড়িতে প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি, পরে অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন মেয়েকে অপরহরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন।

পুলিশ জানায়, তদন্তে নেমে সন্দেহ হওয়ায় সরিতার দেওর ছোটু গোপকে আটক করে জেরা করা হয়। পুলিশের দাবি, ছোটু জানায়, সরিতার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি অন্য কারও সঙ্গে বৌদির সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এই সন্দেহের জেরে সে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করে দেহ বস্তায় ভরে পরিত্যক্ত ওই খনিতে ফেলে দিয়েছে। শনিবার ছোটুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই দিনই ইসিএলের উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ পরিত্যক্ত খনি থেকে দেহ উদ্ধারে নামে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেও তা করা যায়নি। প্রায় একশো ফুট নীচে জলের মধ্যে বস্তা দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। রবিবার চার জনের উদ্ধারকারী দল ক্রেনের সাহায্যে ভূগর্ভে নামে। বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় বস্তাবন্দি দেহ উপরে নিয়ে আসেন তাঁরা। উদ্ধারকারী দলের তরফে জাভেদ খান বলেন, ‘‘বস্তা থেকে মৃতের পা বাইরে বেরিয়ে ছিল। দেহ পচেগলে গিয়েছে।’’

এ দিন উদ্ধারকাজের সময়ে এলাকার হাজারখানেক বাসিন্দা পরিত্যক্ত ওই খনির সামনে ভিড় জমান। মেয়ের দেহ উদ্ধারের পরে সরিতার বাবা বচ্চনবাবু কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বামী রাজীব বলেন, “লজ্জায়, ঘৃণায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। দোষীর কড়া শাস্তি চাই।’’

স্থানীয় কাউন্সিলর পূর্ণশশী রায় বলেন, ‘‘এর আগেও অনেককে খুন করে দেহ এ ভাবে খনিমুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ইসিএলের সাতগ্রাম এরিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকায় পরিত্যক্ত খনিমুখগুলি বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।’’

পুলিশ জানায়, দেহ ময়না-তদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুনের মামলা রুজু হয়েছে।