শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মৃত হালিমা বিবি (৩০)র দাদা বাবু শেখের অভিযোগ, বছর দুয়েক আগে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ভগ্নিপতি। তা নিয়ে অশান্তি শুরু হয় দু’জনের। বৃহস্পতিবার রাতেও প্রতিবাদ করায় ওই বধূকে খুন করা হয়, দাবি তাঁর। মহম্মদ ফজরউদ্দিন নামে দাঁইহাটের পাইকপাড়া মসজিদপাড়ার বাসিন্দা ওই যুবককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে শ্বশুরবাড়ির তরফের এক আত্মীয়কেও।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হালিমার বাপেরবাড়ি নদিয়ার কালীগঞ্জ থানার পাঁচখোলা গ্রামে। বছর বারো আগে পেশায় রাজমিস্ত্রি মহম্মদ ফজরুদ্দিনের সঙ্গে সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয় তাঁর। তিনটি সন্তানও রয়েছে ওই দম্পতির। বাবু শেখের অভিযোগ, বিয়ের সময় নগদ টাকা, আসবাবপত্র দিয়েছিলেন তাঁরা। প্রথম দিকে ঠিকই ছিল সম্পর্ক। তবে বছর দুয়েক আগে ফজরুদ্দিন গ্রামেরই এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, অভিযোগ তাঁর। হালিমা প্রতিবাদ করায় শুরু হয় অশান্তি। বছর খানেক আগে ওই বধূ বাপেরবাড়িও চলে যান। পরে আত্মীয়-স্বজনের হস্তক্ষেপে সাময়িক ভাবে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়। তবে মাস ছয়েক আগে থেকে ফের শুরু হয় ঝামেলা।

এ দিন হাসপাতালের পুলিশ মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাবু শেখ বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাতে আমরা খবর পাই বোনের স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে তাই বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু, ভাগ্নে-ভাগ্নির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে কথাবার্তার সময় ভগ্নিপতিকে চেপে ধরি। কথা শুনেই সন্দেহ হয়েছিল আমাদের।’’ তাঁর অভিযোগ, ওই রাতে ঝামেলার সময় হালিমাকে মারধর ও মুখে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এর পরেই পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। শুক্রবার কাটোয়া হাসপাতালে ময়না-তদন্তও হয় দেহের।