মেয়ের মৃত্যুর পরে কেটেছে এক মাসের বেশি সময়। সেই মেয়ে, মধুস্মিতা বায়েনের (১৩) অঙ্গদান করেছিলেন বাবা-মা। ‘গ্রিন করিডর’ করে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার পথ উজিয়ে দুর্গাপুর থেকে সেই অঙ্গ আনা হয়েছিল কলকাতায়। এ বার মধুস্মিতার বাবা-মা’কে দেখা গেল অন্য ভূমিকায়। তাঁরা হাঁটলেন মিছিলে। অঙ্গদানের জন্য যাতে আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ এগিয়ে আসেন, তারই বার্তা দিলেন তাঁরা।

পেশায় মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিআইএসএফ কর্মী দিলীপ বায়েন ও তাঁর স্ত্রী অর্চনাদেবীর বড় মেয়ে মধুস্মিতা। এ দিন অঙ্গদানের সমর্থনে শনিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে ওই দম্পতিকেই দেখা গেল মিছিলে পা মেলাতে। একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিছিলের আয়োজন করে। শনিবার ওই দম্পতিকে সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও জানানো হয়। ওই দম্পতির ছোট মেয়ে বেসরকারি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিঙ্কিও মিছিলে পা মেলায়।

সংস্থার আয়োজিত স্বাস্থ্যমেলায় অঙ্গদানের গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, ‘‘মেয়ের অঙ্গদানের বিষয়ে প্রথমে আমার আপত্তি ছিল। আমার স্ত্রী-ও রাজি ছিলেন না। কিন্তু সহকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করিনি। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে, কেউ যেন পিছিয়ে না যান, এটাই চাওয়া।’’ ওই দম্পতির আশা, অঙ্গদানের মাধ্যমে অন্য কেউ সুস্থ হয়ে উঠবে। শোকের মুহূর্তে হয়তো এটাই নিকটাত্মীয়দের পক্ষে খানিক সান্ত্বনার।

এ দিনের মিছিলে হাঁটেন মধুস্মিতা বিধাননগরের যে বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায়, সেই হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার পার্থ পালও।