সিঁড়ি জুড়ে এক বিশাল ময়ূর। দুর্গাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢুকলেই নজর পড়ছে এই ছবি। ওভারব্রিজের সিঁড়িতে রং-তুলি নিয়ে কাজ করছেন শিল্পীরা। স্টেশন চত্বর এ ভাবে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর থেকে দেশের বিভিন্ন স্টেশনের শিল্পকর্ম খতিয়ে দেখে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। গত বছর মোট ৬২টি স্টেশন প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। কোনও স্টেশনে স্থানীয় শিল্পীরা রং-তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন স্থানীয় ইতিহাস, কোথাও আবার স্টেশন সাজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোনও সংস্থাকে। কোনও জায়গায় এই কাজে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিছু স্টেশনে শুধু দেওয়াল বা সিঁড়িতে ছবি আঁকা নয়, পশুপাখির মূর্তি তৈরি করে রাখা হয়েছে। জঙ্গলের পরিবেশ ফুটিয়ে তুলে মহারাষ্ট্রের তাদোবা ন্যাশনাল পার্ক লাগোয়া দু’টি স্টেশন বল্লারশাহ ও চন্দ্রপুর যৌথ ভাবে প্রথম হয়। যৌথ ভাবে দ্বিতীয় হয় বিহারের মধুবনি ও তামিলনাড়ুর মাদুরাই।

এ বছর দুর্গাপুর স্টেশনও এই প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওভারব্রিজের সিঁড়িতে বিশাল রঙিন ময়ূর আঁকার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। যাত্রীরা স্টেশনে ঢুকেই অবাক হচ্ছেন সেই শিল্পকর্ম দেখে। ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে পাহাড়ের মধ্যে ঝর্না আঁকার কাজ এখনও চলছে। এ ছাড়া ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে ঘোড়া ছোটার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। দিনে ভিড় থাকার জন্য রাত ৮টা থেকে কাজ শুরু হচ্ছে। অসম থেকে আসা শিল্পী অনুপ দে, নিয়তি দাস, দেবাশিস বরা নীলোৎপল সমুয়ারা ত্রিমাত্রিক চিত্রকলায় রং-তুলি নিয়ে বদলে দিচ্ছেন দুর্গাপুর স্টেশনকে। 

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানান, স্টেশনের ভিতরে কাজ শেষ হয়ে গেলে বাইরে হাত দেওয়া হবে। পুরনো রেল ইঞ্জিন ‘ইন্দ্রাণী’কে অন্যত্র সরিয়ে সেখানে বিশাল ‘গ্লোব’ গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ভাস্কর্য এনে সাজিয়ে তোলা হবে স্টেশন চত্বর। সম্প্রতি স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা খতিয়ে দেখতে আসে রেলের যাত্রী পরিষেবা কমিটির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। কমিটির সদস্য কুশলকুমার বিদ্যার্থী, সত্যব্রত দত্ত ও রাজীব শর্মা জানান, রেল নানা ভাবে স্টেশন সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা করেছে। ছবি এঁকে স্টেশন সাজা তার মধ্যে অন্যতম।