গ্রাহকদের পরিচয় বদলে অবৈধ ভাবে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কাটোয়ার মুলটি গ্রামের সমবায় সমিতির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে প্রকৃত ঋণ গ্রাহকদের খুঁজে পেল সমবায় দফতর। ১,২৮৭ জনের নামে ঋণ তোলার হিসাব দিয়েছিলেন ম্যানেজার। তদন্তে উঠে এল আসলে মাত্র ২৮০ জন প্রকৃত ঋণ গ্রাহক রয়েছেন।

জানা গিয়েছে, সমবায় দফতররের ভিজিল্যান্সের ডিএসপি বিনয় গুরুং-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের দল তদন্তে নেমে সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে নথি জমা দিতে বলেন। সমবায় দফতরের সহ নিবন্ধক (বর্ধমান ২ রেঞ্জ) বনানী দাস চক্রবর্তী জানান, মুলটি কৃষ্ণনগর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির বর্তমান সদস্য ৫২৬ জন। অথচ ম্যানেজার দেখিয়েছেন ১২৮৭ জনকে কৃষি ঋণ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা গিয়েছে এক জন সদস্যের স্বামী বা পিতৃ পরিচয় বদলে বারবার ঋণ নিয়ে এমন দুর্নীতি করেছেন সমবায়ের ম্যানেজার কলিম মল্লিক। একই ব্যক্তির নামে তিন বছরে ৫ বার ঋণ নেওয়ার নজির মিলেছে। আগের ঋণ শোধ না হলেও ঋণ দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের ১৩ মার্চ সমবায় দফতরের বর্ধমান ২ রেঞ্জে কাটোয়া থানা কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটি লিমিটেড ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৯০ টাকার একটি বিল পাঠায়। তাতে বলা হয় ওই টাকার সার কিনেছে মুলটির সমবায়। ১৮ মার্চ বিভাগীয় তদন্ত হওয়ার পরে জানা যায়, সার কেনার কোনওরকম লাইসেন্স ছাড়াই সমবায়ের সিল ও প্যাড ব্যবহার করে ধার নিয়ে ওই সার, কীটনাশক কিনেছেন ম্যানেজার। জুন নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সমবায় দফতরে ম্যানেজারের নামে প্রতারণার অভিযোগও করেন। তাঁরা জানান, বোরো বা আমন চাষের জন্য কোনও চাষির ৩০ হাজার টাকা ঋণ প্রয়োজন হলে তাঁর নামে তিন লক্ষ টাকা ঋণ দেখিয়েছেন ম্যানেজার।

সমবায় দফতর জানায়, গ্রামের চাষিদের অনেকেরই কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের পাসবই নিয়ে ফেরত দিতেন না কলিম। মাসখানেক অন্তর পরিচয় ও সাক্ষর বদলে ঋণ তুলতেন। শুনানিতে এসে চাষিরা অনেকেই অবাক যে তাঁদের নামে এত ঋণ রয়েছে।বনানীদেবী বলেন, ‘‘ঠিক কত টাকা কারচুপি হয়েছে, আরও কোনও প্রতিষ্ঠান এই দুর্নীতিতে যুক্ত কি না তা জানতে তদন্ত চলবে।’’