তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় গলসি ২ ব্লকের ভুড়ি পঞ্চায়েত এলাকার মোগলসীমা গ্রামের ঘটনা। উপপ্রধান সুবোধ ঘোষের স্ত্রী মাধবীদেবী মঙ্গলবার গলসি থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তৃণমূলের দাবি, লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই নানা কারণে বিজেপি কর্মীরা ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে অশান্তি চালাছে, দলের কর্মীদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি অবশ্য কোনও অভিযোগই মানেনি।

উপপ্রধান তথা তৃণমূলের ভুড়ি অঞ্চল কমিটির সভাপতি সুবোধবাবু মোগলসীমা গ্রামে নির্মীয়মাণ ওই বাড়িতে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক বৌমাকে নিয়ে থাকেন। মাধবীদেবীর দাবি, ঘটনার সময় স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। আচমকা বিজেপির জনা চল্লিশ কর্মী-সমর্থক সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে আমার স্বামীর খোঁজ করে দুষ্কৃতীরা না পেয়ে আমাকে, দুই ছেলে, বৌমা এবং আমাদের এক আত্মীয়কে মারধর করে। বাড়িঘর ভেঙে দেয়। যাওয়ার সময় প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে যায়।’’  

ভুড়ি পঞ্চায়েতের ২০টি বুথের মধ্যে লোকসভা ভোটে ১১টিতে জেতে তৃণমূল। ন’টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি একশো দিনের কাজ, প্রধান মন্ত্রী আবাসন প্রকল্প, গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ-সহ নানা বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিডিওকে স্মারকলিপি দেয় বিজেপি। সোমবার বিকেলেও তৃণমূল, বিজেপি সংঘর্ষে এক জন বিজেপি কর্মী আহত হন বলে অভিযোগ। পরে রাতে সুবোধবাবুর বাড়িতে হামলা হয়। সুবোধবাবুর অভিযোগ, বাড়ির নির্মীয়মাণ গ্যারাজের গেট ভাঙার চেষ্টা হয়। বিদ্যুতের মিটার, জলের পাইনলাইনেও ভাঙচুর করা হয়। তাঁর দাবি, ‘‘লোকসভা ভোটের গণনার পর থেকেই ভুড়ি অঞ্চল জুড়ে তাণ্ডব চালাছে বিজেপি কর্মীরা। আমাদের কর্মীরা ভয়ে এলাকায় থাকতে পারছেন না।  আমাকে খুন করতেই বাড়িতে হামলা চালানো হয়।’’

তৃণমূলের গলসি ২ ব্লক সভাপতি বাসুদেব চৌধুরিরও দাবি, ‘‘বিজেপি ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। উপপ্রধানের বাড়িতে হামলা হয়েছে। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পরে যদিও কোন অশান্তি হয় প্রতিরোধ হবে।’’ বিজেপির গলসি ১-এর সভাপতি কালিকারঞ্জন চট্টোপাধ্যায় অবশ্য কোনও অভিযোগ মানেনি। তিনি বলেন, ‘‘ওই উপপ্রধান নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁরাই হামলা চালিয়েছেন। খামোখা বিজেপিকে জড়ানো হচ্ছে।’’ গলসি থানার দাবি, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।