বিজেপিকে ভোট! তবে জঞ্জাল সাফ করুক মোদী, মন্তব্য তৃণমূল নেতার
রবিবার দুপুরে নর্দমা ও কল সাফ করার দাবিতে বিক্ষোভ  দেখান এলাকাবাসীর একাংশ।
Cleaning

নর্দমা সাফ করছেন এলাকাবাসীরাই। নিজস্ব চিত্র

ভোট বিজেপি-কে। তাই এলাকার নর্দমা সাফের কাজ করবেন নরেন্দ্র মোদী! কাটোয়ার খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল সদস্য ও এক সদস্যের স্বামী এমনই মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ পানুহাটের বাসিন্দাদের একাংশের। এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং সাফাইয়ের দাবিতে রবিবার এলাকায় বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীর একাংশ। যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তেরা।

রবিবার দুপুরে নর্দমা ও কল সাফ করার দাবিতে বিক্ষোভ  দেখান এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁরা নিজেরাই জঞ্জাল সাফ করেন। শিপ্রা দেবনাথ, মাম দেবনাথ-সহ কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘গত দু’বছর ধরে পঞ্চায়েতে ঘুরছি। কিন্তু সাফাইয়ের কথা বললেই পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী কানাই দেবনাথ ও সদস্য রজনী সরকার বলছেন, তোরা যখন মোদীজিকে ভোট দিয়েছিস তখন উনিই এসে জঞ্জাল সাফ করবেন।’’ এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ওই দু’জন সবসময় বলেন, বিজেপি-কে ভোট দিলে এলাকায় পরিষেবা মিলবে না। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে কানাইবাবু ও রজনীবাবুর দাবি, ‘‘এমন কোনও কথা এলাকাবাসীকে বলিনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এ সব বিজেপি করাচ্ছে।’’

কাটোয়ার খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর বুথ এলাকায় প্রায় ৩,৫০০ মানুষের বাস। গত বিধানসভায় তিনটি বুথেই প্রাপ্ত ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এ বারের লোকসভা ভোটেও তিনটি বুথ থেকে যথাক্রমে ২৮৬, ৫৯ ও ১২৮ ভোটে লিড পেয়েছে বিজেপি।

স্থানীয় ইঁদারাপার থেকে কাটোয়া ১ ব্লকের বিডিও অফিস পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা সম্প্রতি ঢালাই করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা ও নর্দমা একই উচ্চতায় থাকায় রাস্তা নোংরা জলে ভাসছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। আরও অভিযোগ, ইঁদারাপারে একটি কল থাকলেও দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় তা থেকে নোংরা জল পড়ে। শ্যামল দেবনাথ, রঞ্জিত দেবনাথ, সুরজিৎ দেবনাথ-সহ বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ‘‘নর্দমার জলে মশা বাসা বেঁধেছে। আবর্জনার দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায়।’’

খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের প্রধান আন্না দত্ত মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘জঞ্জাল সাফাইয়ের জন্য পুরসভার মতো পঞ্চায়েতে পৃথক কর্মী থাকে না। এনআরজিএস প্রকল্পের কর্মীদের দিয়েই এ সব কাজ করানো হয়। তবে ভোটের জন্য কাজ থমকে ছিল। এ বার সাফাইয়ের কাজ শুরু হবে।’’

নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে এমন বক্তব্যের কথা চাউর হতেই শুরু হয়েছে বিজেপি-তৃণমূল চাপানউতোর। যদিও পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারার দাবি, ‘‘বিষয়টি জানি না। কী ঘটেছে, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’’বিজেপির জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষের অভিযোগ, ‘‘২০১১ থেকেই তৃণমূল না করলে পরিষেবা না দেওয়ার রীতি চলে আসছে। পানুহাটে মানুষ অনেক দিন ধরেই আমাদের পক্ষে। তাই পরিষেবা-সহ কোনও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সেখানে নেয় না প্রশাসন।’’ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত