সারা হয়েছে ‘রোল কল’। শিক্ষক সবে পড়াতে যাবেন। এমন সময়ে দেখলেন, এই মাত্র ‘উপস্থিত’ দেওয়া কয়েক জন পড়ুয়া ক্লাসে নেই! ক্লাসের পিছন দরজা দিয়ে প্রথমে মাঠে, তার পরে পাঁচিল টপকে সোজা স্কুলের বাইরে চলে যাচ্ছে তারা। এই প্রবণতা রুখতে স্কুল লাগোয়া ‘দোকানদারবৃন্দের’ কাছে আবেদনপত্র দিয়ে সাহায্য চাইলেন ভাতার মাধব পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত সোম।
 
সপ্তাহখানেক আগে ভাতার বাজারের বিভিন্ন জায়গায় সাঁটানো সেই সব আর্জিপত্রে সুব্রতবাবুর ফোন নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে, স্কুল চলাকালীন গেটের বাইরে কোনও পড়ুয়াকে সাইকেল রাখতে দেখলে অথবা পড়ুয়াদের গেটের বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখলে যেন কর্তৃপক্ষের ‘দৃষ্টি আকর্ষণ’ করা হয়।
 
এই আর্জিপত্র সাঁটানোর সুফলও মিলছে, জানান প্রায় ১,৬০০ পড়ুয়ার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুব্রতবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘ব্যবসায়ী বা স্থানীয় মানুষজন আর স্কুলের বাইরে সাইকেল রাখতে দিচ্ছেন না। পড়ুয়াদের স্কুলের ভিতরে সাইকেল নিয়ে ঢুকতে হচ্ছে। তাই সাইকেল ফেলেও পালাতে পারছে না পড়ুয়ারা। গত কয়েক দিনে পাঁচিল টপকে পালানোর প্রবণতা কমেছে।’’
 
কিন্তু কেন এমন আর্জিপত্র দেওয়ার প্রয়োজন পড়ল? শিক্ষকদের দাবি, মূলত অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়া ‘বিশৃঙ্খলা’ তৈরি করছে। তাদের ‘কড়া শাসন’ করায় অভিভাবকেরা স্কুলে এসে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ! তার পরে পড়ুয়াদের পালানোর প্রবণতা বাড়তে থাকে। এমনকি, ওই সব পড়ুয়ারা বেশ কয়েকটি ঘরের ফ্যান নষ্ট করা, শৌচাগারের ১১টি কল ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান। তাদের ‘দৌরাত্ম্যের’ আঁচ পড়েছে বাইরেও। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানের সামনে সাইকেল রেখে চলে যাচ্ছে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চলে এসে সাইকেল নেওয়ার সময়ে পড়ুয়াদের কিছু বলতে গেলেই ‘অসভ্যতামি’ করছে।
 
এই আর্জিপত্রকে স্বাগত জানাচ্ছেন ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে অভিভাবকদের একাংশ, সকলেই। তাপিন মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীর কথায়, “প্রধান শিক্ষক দোকানে দোকানে গিয়ে পড়ুয়াদের উপর নজর রাখতে বলেছেন। প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে আমরাও যোগ দিয়েছি। শুনেছি, এর ফলও মিলছে।’’
 
ঘটনাচক্রে, এর আগে পড়ুয়াদের ‘অ-ছাত্র সুলভ’ ছাঁটে চুল না কাটার জন্য সেলুন মালিকদের আর্জি জানিয়েছিলেন  দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ২ ব্লকের হাটগাছা হরিদাস বিদ্যাপীঠের (উচ্চ মাধ্যমিক) প্রধান শিক্ষক। সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অভিভাবকদের বড় অংশই। এ ক্ষেত্রেও ভাতারের ওই স্কুলের এমন আর্জিপত্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিভাবক সীতারাম দে, মানসী পালেরা। তাঁরা বলেন, ‘‘ক্লাস পালানোর প্রবণতা খুবই ছোঁয়াচে। প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে স্থানীয়রা পাশে দাঁড়ানোয় পড়ুয়ারাও ক্লাস পালাতে ভয় পাবে।’’