জলপ্রকল্পের কাজে বেনিয়ম হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের মূল রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দাদের একাংশ। কুলটির মিঠানি গ্রামে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সনাতন পাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৮টা নাগাদ অবরোধ শুরু হয়। বিকেল ৪টে নাগাদ নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলতে অনুরোধ করে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফে আলোচনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু বাসিন্দারা তাতে কর্ণপাত করেননি। যদিও বেনিয়মের অভিযোগ মানতে চায়নি আসানসোল পুরসভা। পুর-কর্তাদের দাবি, প্রকল্পের রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, আসানসোল পুরসভার তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার নতুন জলপ্রকল্পের কাজ চলছে কুলটিতে। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মিঠানি গ্রামেও মাসখানেক আগে পাইপ পাতার কাজ শুরু হয়। নিয়ম মতো পাইপ পাতা হচ্ছে না বলে বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ। তাঁদের আরও অভিযোগ, পাইপ পাতার জন্য রাস্তা খোঁড়া হলেও তা সংস্কার করা হচ্ছে না। ফলে, দুর্ঘটনা ঘটছে। অবরোধের জেরে আসানসোল থেকে রাধানগর রোড, মিঠানি গ্রাম হয়ে চিনাকুড়ি ও ডিসেরগড় যাওয়ার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, নিত্যযাত্রীদের ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়।

দলেরই হাতে থাকা পুরসভার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেন? তৃণমূলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সনাতনবাবুর দাবি, ‘‘বাসিন্দাদের স্বার্থেই তা করছি।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘গ্রামের এক প্রান্তে ছয় ইঞ্চি পাইপ বসেছে। অথচ, অন্য প্রান্তে তিন ইঞ্চির পাইপ বসছে।’’ তাঁর দাবি, এটা মেনে নেওয়া হবে না। গ্রামের সব প্রান্তেই ছয় ইঞ্চির পাইপ বসাতে হবে। পুজোর আগে পাইপ বসানোর জন্য খুঁড়ে রাখা রাস্তা সংস্কার করতে হবে বলেও দাবি তাঁদের।

অভিযোগ মানতে চাননি মেয়র পারিষদ (জল) পূর্ণশশী রায়। তাঁর দাবি, ‘‘প্রকল্পের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঠিক পাইপ পাতা হচ্ছে। আমরা বাসিন্দাদের জল সরবরাহ করতে চাইছি।’’ তিনি জানান, তাঁরা প্রকল্পের কাজে বাধা দিলে কাজ বন্ধ থাকবে। তবে পুজোর আগেই রাস্তা সংস্কার হয়ে যাবে।