স্ত্রীকে নির্যাতন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে বিজেপির এক শিক্ষক-নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার রাতে বেনাচিতির নতুনপল্লির বাড়ি থেকে ধরা হয় চিরঞ্জিত ধীবর নামে ওই নেতাকে। কাঁকসার একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক চিরঞ্জিতবাবু গত পুরভোটে দুর্গাপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। তিনি আরএসএস প্রভাবিত ‘বঙ্গীয় নবউন্মেষ প্রাথমিক শিক্ষক সঙ্ঘে’র রাজ্য সম্পাদক  পদেও রয়েছেন।

ধৃতের স্ত্রী সন্ধ্যা জানান, বছর পাঁচেক আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। একটি ছেলেও রয়েছে। তাঁরা নতুনপল্লিতে থাকেন। চিরঞ্জিতের বাবা-মা থাকেন ডিএসপি টাউনশিপে শিবাজি রোডে। সন্ধ্যা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপরে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন হত। স্বামীর বেশ কিছু বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। ৫ অগস্ট তিনি স্বামীর মোবাইল ফোনটি হাতে পেয়ে অনেক মহিলার সঙ্গে অশালীন কথোপকথন (চ্যাট) দেখে ফেলেন। সন্ধ্যার অভিযোগ, ‘‘এর আগেও এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। কিছুতেই শোধরায়নি। বাইরে ভালোমানুষ সেজে থাকে। ওর আসল রূপ জানাতে আমি ফোনের বেশ কিছু ছবি ও চ্যাট সে দিন অনেককে পাঠিয়ে দিই।’’ 

সন্ধ্যা অভিযোগ করেন, এর পর দিনই চিরঞ্জিত ও তাঁর বাবা এসে জোর করে মোবাইলটি তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর গলা টিপে ধরা হয়। চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এর পরে দুর্গাপুর মহিলা থানায় গেলেও পুলিশ তিন দিন ধরে তাঁর অভিযোগ নিতে টালবাহানা করে বলে অভিযোগ সন্ধ্যার। তিনি জানান, শেষে ডাকযোগে অভিযোগপত্র পাঠান। তা নথিবদ্ধ হয় ১৫ অগস্ট। যদিও পুলিশ অভিযোগ নিতে না চাওয়ার কথা মানতে চায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সে দিনের পর থেকে চিরঞ্জিত বাবা-মায়ের কাছে থাকছিলেন। সন্ধ্যার অভিযোগ, ‘‘সোমবার সন্ধ্যায় নতুনপল্লিতে এসে বাড়ির দরজায় টোকা দিলে আমি দরজা খুলি। সঙ্গে সঙ্গে আমার স্বামী ভিতরে ঢুকে কেরোসিন ঢেলে আমাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। আড়াই বছরের ছেলেকে কেড়ে নিয়ে কুয়োয় ফেলে দিতে চেয়েছিল। কোনও রকমে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসি।’’ তিনি জানান, প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে চিরঞ্জিতকে গ্রেফতার করে। যাওয়ার সময়ে তিনি স্ত্রীকে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি চিরঞ্জিত। অভিযোগে নাম রয়েছে তাঁর বাবা তপনবাবুরও। তিনি দাবি করেন, ‘‘বাড়ির অমতে ছেলে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকে বৌমা অশান্তি করত। তাই ওদের আলাদা থাকার পরামর্শ দিই। কিন্তু তার পরেও সমস্যা মেটেনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।’’ মঙ্গলবার ধৃতকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে এক দিন জেল-হাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতা উত্তম মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘শিক্ষক সংগঠনের নেতা হয়ে এমন কাজের জন্য অভিযুক্তের কঠোর সাজার দাবি জানাচ্ছি।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘দোষ করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। তবে বিজেপি করেন বলে রাজনৈতিক অভিসন্ধির শিকার যেন না হন।’’