অতীতের ‘ভুল’ আর নয়, কুলটিতে আর্জি মুনমুনের
মঞ্চে উঠেও মুনমুন একই আবেদন জানান। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘বাঁকুড়ায় অনেক কাজ করেছি। এখানেও কাজ করতে চাই। তাই অতীতের ভুল আর করবেন না।’’
munmun

কুলটির সভায় তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। ছবি:বিকাশ মশান।

চড়া রোদের মধ্যেও অপেক্ষায় জনতা। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা। দলের কর্মী-সমর্থকেরা তো বটেই, ভিড়ের মধ্যে ছিলেন এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের একাংশও। তাঁদের এই অপেক্ষা প্রার্থীকে দেখার জন্য। সোমবার কুলটিতে তৃণমূলের প্রচারসভায় মুনমুন সেন আসার পরেই তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য পড়ে যায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

এ দিন কুলটির দু’জায়গায় দু’টি প্রচারসভার আয়োজন করে তৃণমূল। সকাল ১১টা নাগাদ প্রথম সভাটি হয় কুলটির কেন্দুয়াবাজার এলাকায়। এখানে মূলত হিন্দিভাষী বাসিন্দার সংখ্যা বেশি। তবে তৃণমূল প্রার্থী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাতেই। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ দ্বিতীয় প্রচারসভাটি হয় কুলটির শ্রীপুর রোডে। দুপুরের তীব্র গরমের মধ্যেও এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে অপেক্ষা করছিলেন মুনমুনের জন্য। সভামঞ্চের কাছে তাঁর গাড়ি এসে দাঁড়াতেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন বাসিন্দারা। শুরু হয় নিজস্বী তোলার জন্য হুডোহুড়ি। ভিড় ঠেলে সভামঞ্চের দিকে এগোতে বেশ বেগ পেতে হয় প্রার্থীকে। এক সময়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘তোমরা তোমাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে দিদিকে জেতাও। আমি আবার আসব, তোমাদের সঙ্গে ছবিও তুলব।’’ মঞ্চে উঠেও মুনমুন একই আবেদন জানান। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘বাঁকুড়ায় অনেক কাজ করেছি। এখানেও কাজ করতে চাই। তাই অতীতের ভুল আর করবেন না।’’

এ দিন প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারসভায় উপস্থিত ছিলেন কুলটির তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে কুলটি বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল প্রায় ৪২ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল বিজেপি-র থেকে। সেই পরাজয়ের ছবিটা এ বার মুছে ফেলার সুযোগ এসেছে দাবি করে উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘‘রাগ, দুঃখ, অভিমান ভুলে এ বার কুলটি থেকে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতাতেই হবে। গত ভোটের পুনরাবৃত্তি আর যেন না হয়।’’

এ দিন সভা চলাকালীনই এলাকার বাসিন্দারা কুলটির অরবিন্দনগরে নর্দমা তৈরি ও বরাকর নদীপাড়ের উন্নয়নের দাবি জানান। প্রার্থীকে পাশে বসিয়ে সভামঞ্চ থেকেই উজ্জ্বলবাবুর আশ্বাস, ভোটের পরেই এই দু’টি সমস্যা মেটানোর জন্য জেলা প্রশাসনের দফতরে ধর্না দেবেন।

তৃণমূল প্রার্থীকে দেখতে কুলটিতে জনতার এমন ভিড়কে অবশ্য আমল দিতে নারাজ বিজেপি। দলের আসানসোল জেলা সহ-সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘কুলটির মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ভোটের ফলে আবার সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’