জানলা ভেঙে মোবাইল নিয়ে চম্পট দেওয়ার আগে বালিশের পাশে দু’টি সিম খুলে রেখে দিয়ে গেল চোর!

শুধু তাই নয়, কাঁচা হাতে ইংরেজি ও রোমান হরফে বাংলা মিশিয়ে মোবাইলের মালিকের উদ্দেশে চিঠিও লিখে দিয়ে গিয়েছে ‘রসিক’ চোর। সেই লেখার মর্মার্থ করলে দাঁড়ায়, ‘আমি এক জন চোর। তোমার ফোন চুরি করছি। কিন্তু টেনশন কোরো না। আমি তোমার ফোন আবার এক মাস পর ফিরিয়ে দেব’।

ঘুম ভেঙে বৃহস্পতিবার সকালে বালিশের পাশে চিঠি ও সিম দু’টি দেখে ভাতারের কলপাড়ার যুবক সজন মিঞা ভেবেছিলেন, কেউ বুঝি তাঁর সঙ্গে ‘ইয়ার্কি’ করেছে। কিন্তু, হঠাৎ এমন মজা করার কারণ কী? এটা ভাবার জন্যে চায়ে চুমুক দিতেই তাঁর চোখে পড়ে, মাটির ঘরের ছোট জানলার পাল্লা ভাঙা। তা হলে কি সত্যিই চোর ঢুকেছিল? চায়ের কাপ রেখে ঘর আঁতিপাতি করে খুঁজতেই ওই যুবক বুঝতে পারেন, স্মার্টফোনটি ছাড়া আর কিছুই খোয়া যায়নি।

এ দিন বিকেলের দিকে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন পেশায় লটারির টিকিট বিক্রেতা সজন। সঙ্গে সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা চিঠিটিও পুলিশের কাছে জমা দেন।  সজন বলেন, “প্রথমে তো ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। কেন মজা করল, সেটা ভাবতে গিয়ে দেখলাম জানলার একটা পাল্লা ভাঙা। ঘরের ভিতর থেকে কেউ কিছু নিয়ে যায়নি। শুধু মোবাইলটা ছাড়া। বালিশের পাশে চিঠির সঙ্গে সিম দুটো রেখে দিয়ে গিয়েছে। থানায় অভিযোগ জানাব কি না ভাবছিলাম। সবার সঙ্গে কথা বলে একটা অভিযোগ ঠুকেই দিলাম।’’ তিনি জানান, মোবাইল অ্যালার্মেই তাঁর ঘুম ভাঙে। এ দিন অবশ্য অ্যালার্ম বাজেনি। মোবাইল দেখতে গিয়েই তিনি চিঠি ও সিমের সঙ্গে একটি সূচও পেয়েছেন।

সজনের ধারণা, “ওই সূচ দিয়েই আমার মোবাইলের সিমটা বের করা হয়েছে। আর চিঠি দেখে মনে হচ্ছে, আমার পেন দিয়েই লেখা হয়েছে।’’ ওই চিঠির শেষে চোর লিখে গিয়েছে, ‘টেনশন নেওয়ার দরকার নেই। এক মাস ধৈর্য ধর। মোবাইল ফেরত পেয়ে যাবে।’ পুলিশ অফিসারেরাও এ রকম ঘটনা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, চুরি করা জিনিস ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চুরি করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনাও বিরল নয়। আবার বছর দশেক আগে কেতুগ্রামে একের পর এক ডাকাতির সময় মার্কশিট-অ্যাডমিট কার্ড থেকে বিয়ের গয়না পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার নজির রয়েছে। তা বলে চিঠি লিখে এক মাসের মধ্যে ‘মাল’ ফেরত দেওয়ার কথা কোনও চোর ঘোষণা করেছে বলে তাঁরা মনে করতে পারছেন না।

জেলা পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘ওই যুবকের খুব পরিচিত কেউ-ই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’’