বর্ষা নামতেই রাজ্যের নানা প্রান্তে দু-একটি ক্ষেত্রে ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এ বার দুর্গাপুরে এক মহিলার রক্তে ডেঙ্গি সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গিয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা জ্বর ও পেটের রোগে ভুগছিলেন ডিএসপি টাউনশিপের বি-জোনের তিলক রোডের বাসিন্দা ৪৮ বছরের ইলা বিশ্বাস। ২০ জুলাই তাঁর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, ‘এনএসওয়ান পজিটিভ’ ও ‘আইজিজি নেগেটিভ’। ২১ জুলাই তাঁকে শোভাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে।

সম্প্রতি কলকাতা ও রায়গঞ্জের দুই ছাত্রীর রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়েছিল। সপ্তাহখানেক আগে হুগলির বৈদ্যবাটির এক বৃদ্ধের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ‘এনএসওয়ান পজিটিভ’ ফল মেলে। তবে চিকিৎসকরা জানান, জ্বর ছাড়ার পরে মহিলার আইজিজি বা আইজিএম পরীক্ষা না করে ডেঙ্গি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। হাসপাতাল সুপার দেবব্রত দাসের বক্তব্য, ‘‘ডেঙ্গি নিশ্চিত কি না, অ্যালাইজা পরীক্ষা করা হয়েছে। সোমবার রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’’

মাস তিনেক আগে দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করতে এসে শুরুতেই মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসন ও পুরসভাগুলিকে ধাবারাহিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। দুর্গাপুর পুরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত নর্দমা ও আবর্জনা সাফাইয়ের কাজ চলছে। তার পরেও বর্ষার শুরুতেই এই ঘটনা সামনে আসায় কিছুটা হলেও প্রশ্নের মুখে পড়েছে দুর্গাপুর পুরসভার ভূমিকা।

এ ছাড়া দুর্গাপুরে গত কয়েক বছরে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ২০১২ সালে দু’জনের মৃত্যু হয়। ২০১৫ সালে এক বালিকার মৃত্যু হয়। সে বছরেই দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় ডাক্তারি পড়তে গিয়ে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হস্টেলে থাকা এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ২০১৬-য় মারা যান সেপকো টাউনশিপের এক বয়স্ক মহিলা। তাঁর রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়েছিল। সে বারই ডিএসপি টাউনশিপের ভারতী রোডে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ডেঙ্গি হেমারেজিক জ্বরে আক্রান্ত হয়েই ওই বালকের মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল হাসপাতাল।

তবে দুর্গাপুরে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, সবই করবে পুরসভা। দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) রাখী তিওয়ারি বলেন, ‘‘বিষয়টি কী, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলরকে জানানো হয়েছে। কী পরিস্থিতি, তা খতিয়ে দেখতে আজ সকালে আমিও এলাকায় যাব।’’