প্রায় পাঁচ বছর আগে মৃত কর্মীর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার দাবিতে খনির উৎপাদন ঘণ্টা তিনেক বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখালেন পরিজনেরা। মঙ্গলবার ইসিএলের কাজোড়া এরিয়ার পরাশকোল ওয়েস্ট কোলিয়ারিতে এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় কেকেএসসি।

কোলিয়ারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে সংস্থার কাল্লা সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন খনিকর্মী লক্ষ্মীরাম মাঝি (৩৫)। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে তাঁর স্ত্রী বেদেনি মেঝান ও তাঁর বোন সোনালি মেঝান খনিতে নামার ডুলির রাস্তা আটকে বসে পড়েন। তার জেরে কোনও কর্মী খনিতে নামতে পারেননি। এর পরে এরিয়া কর্তৃপক্ষ বেদেনিদেবী ও তাঁর বোনকে এরিয়া কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানে কেকেএসসি-র সাধারণ সম্পাদক হরেরাম সিংহের নেতৃত্বে তাঁরা দু’জন এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

বেদেনিদেবী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি কোনও বকেয়া পাওনা পাননি। মৃতের পরিবারের এক জনকে চাকরিতে নিয়োগ করার নিয়ম থাকলেও তাঁকে নিয়োগ করা হয়নি। তাঁকে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘নিয়মিত মজুরের কাজ মেলে না। আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু এ ভাবে বেশি দিন চালানো সম্বব নয়। তাই এই বিক্ষোভে শামিল হয়েছি।’’ দাবি পূরণ না হলে টানা অবস্থানে বসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

হরেরামবাবু বলেন, ‘‘স্বামীর মৃত্যুর পরে মহিলাকে যে ভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে তা দেখে বিক্ষোভে আমরা তাঁর পাশে ছিলাম।’’ এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার নরেশকুমার সাহা বলেন, ‘‘কোনও কারণে প্রক্রিয়ায় দেরি হয়ে গিয়েছে। দিন পনেরোর মধ্যে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।’’