এক যাত্রীর সঙ্গে ‘অভব্য’ আচরণের কারণে আরপিএফ-কে (‌রেল সুরক্ষা বাহিনী) এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। শুক্রবার কলকাতার কয়লাঘাটে কেন্দ্রীয় দফতরে ওই যাত্রীর হাতে জরিমানার টাকার চেক তুলে দিল আরপিএফ।

বর্ধমানের ভাতছালার যুবক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি নির্ভীক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর বর্ধমান-আসানসোল লোকাল ধরে দুর্গাপুর যাচ্ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারাজ স্টেশন থেকে এক ভদ্রলোক বড় ব্যাগ নিয়ে ট্রেনে ওঠেন। কামরার মাঝে ব্যাগ রাখা নিয়ে ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই আরপিএফের পানাগড় পোস্টের কয়েকজন কর্মী এসে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। নির্ভীকবাবুর অভিযোগ, অভব্য আচরণ করে আরপিএফ পোস্টে চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয় তাঁকে। পরে ৮০০ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পান। এর পরেই ২০ ডিসেম্বর তিনি আরপিএফের আসানসোল ডিভিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে চিঠি দেন।

২০১৭ সালের ২৪ মে রেল বোর্ডের নিরাপত্তা কমিশনার (অপরাধ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান, তাঁরা ঘটনার তদন্ত করে দেখেছেন, প্রতিবন্ধী কামরায় উঠেছিলেন নির্ভীকবাবু। সে জন্য তাঁকে জরিমানা করা হয়েছিল। তবে ওই যাত্রীর সঙ্গে আরপিএফের হেড কনস্টেবল এবং এক এএসআই অভব্য আচরণ করেছেন, সেটাও রিপোর্টে উঠে এসেছে। সে জন্য ওই দু’জন কর্মীকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আরপিএফকে চিঠি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এর জন্য কেন এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে না, তার কারণ দর্শানো হোক। তার জবাবে সে বছর ২ মে আরপিএফ জানায়, নির্ভীকবাবু জরিমানা দিয়েছেন। আদালতে তা গ্রাহ্যও হয়েছে। অভিযুক্তেরা শাস্তি পেয়েছেন। তাই এক লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়া ন্যায্য হবে না বলে দাবি করা হয়।

যদিও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আরপিএফের এই দাবি মানেনি। তারা সাফ জানায়, একটি প্রতিবন্ধী কামরা থেকে খুঁজে খুঁজে এক জনকেই আটক করা, তার পরে তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই টাকা ছ’সপ্তাহের মধ্যে নির্ভীকবাবুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পূর্ব রেল জানায়, ২ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকা দেওয়া হবে। নির্ভীকবাবু বলেন, ‘‘আমার লড়াই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই লড়াইয়ে অবশেষে জয় এল।’’