খনিকর্মীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে নজর দিতে কয়লা শিল্প রাষ্ট্রায়ত্তকরণের পরে ইসিএলের সাতটি এরিয়ায় হাসপাতাল তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মীর অভাবে এখন ধুঁকছে সেগুলি। তিনটি বন্ধই হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলির হালও শোচনীয়। হাসপাতালগুলির অধীনে থাকা নানা চিকিৎসা কেন্দ্রও স্থায়ী চিকিৎসকের অভাবে বেহাল।

ইসিএলের সাতটি এরিয়ায় গোটা ষাটেক কোলিয়ারি রয়েছে। কিন্তু সংস্থার হাসপাতালগুলির এমন অবস্থার জন্য খনিকর্মীরা উপযুক্ত চিকিৎসা পান না বলে অভিযোগ। শ্রীপুর এরিয়া হাসপাতাল প্রায় দু’দশক, পাণ্ডবেশ্বর এরিয়া হাসপাতাল প্রায় দু’বছর এবং কাজোড়া এরিয়া হাসপাতাল বছরখানেক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মাস ছয়েক আগে সাতগ্রাম এরিয়া হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু বহির্বিভাগ  চালু রয়েছে।

শ্রীপুর এরিয়ার অধীনে দশটি চিকিৎসাকেন্দ্র চালাচ্ছেন দু’জন চিকৎসক। পাণ্ডবেশ্বর এরিয়ায় সাতটি চিকিৎসাকেন্দ্র দু’জন এবং কাজোড়া এরিয়া হাসপাতালের ন’টি কেন্দ্র চালাতে হয় পাঁচ জন চিকিৎসককে। সাতগ্রাম এরিয়া হাসপাতালে রয়েছেন দু’জন চিকিৎসক। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে কোনও চিকিৎসক নেই। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরাই ভরসা।

বাঁকোলা এরিয়া হাসপাতালে চার জন চিকিৎসক রয়েছেন। এই এরিয়ার অধীনে এগারোটি চিকিৎসাকেন্দ্র সামলাতে হয় পাঁচ জন ডাক্তারকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর ফলে কোনও কেন্দ্রেই নিয়মিত ডাক্তার মেলে না। ফার্মাসিস্ট রয়েছেন এক জন। তিনি ছুটি নিলে বিপাকে পড়তে হয়। এরিয়া মেডিক্যাল অফিসার অপূর্বকমার চট্টরাজ জানান, টেকনিসিয়ানের অভাবে অনেক কিছুই সময়মতো পরীক্ষা করা যায় না। এরিয়া হাসপাতাল ভবন বছরখানেক আগে সংস্কার করা হয়েছে। সব রকম পরিকাঠামোও রয়েছে। কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। সাত জন চিকিৎসক নিয়োগ করা হলে হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে পরিষেবা উন্নত হবে বলে জানান তিনি।

কেন্দা এরিয়া হাসাপাতালের মেডিক্যাল অফিসার জানান, কোনও বিশেষজ্ঞ ছাড়াই হাসপাতালে পাঁচ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে হাসপাতালের ন’টি কেন্দ্রে কাজ করতে হয়। এ ছাড়া সব ক্ষেত্রেই কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। বাঁশরা এরিয়া হাসপাতালে এক জন বিশেষজ্ঞ-সহ ছ’জন চিকৎসক রয়েছেন। সাতটি চিকিৎসা কেন্দ্র চালান তিন জন ডাক্তার। অন্য পদেও পর্যাপ্ত কর্মী নেই বলে অভিযোগ। ছোড়া এরিয়া হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার জয়প্রকাশ কানোজিয়া, বাঁশরার মেডিক্যাল অফিসার তপতী পোদ্দারেরা জানান, তাঁরা বেশ কয়েক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শূন্য পদে চিকিৎসক ও কর্মী নিয়োগের   আবেদন জানিয়েছেন।

সিটু নেতা তুফান মণ্ডল, কেকেএসসি-র সাধারণ সম্পাদক হরেরাম সিংহ, কোলিয়ারি মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক চণ্ডী বন্দ্যোপাধ্যায়েরা অভিযোগ করেন, ইসিএলের এরিয়া হাসপাতালগুলি কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। কোনও হাসপাতালেই একটির বেশি অ্যাম্বুল্যান্স নেই। খনিতে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বা খনিকর্মীরা অসুস্থ হলে প্রথমে তাঁদের এরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই শ্রমিক নেতাদের দাবি, তাতে সময় নষ্ট হয়। কারণ, পরিকাঠামোর সমস্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থদের সংস্থার কাল্লা সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালগুলিতে পরিষেবার উন্নতির আর্জি অনেক বার কর্তৃপক্ষের কাছে জানালেও ফল হয়নি বলে তাঁদের দাবি।

ইসিএলের সিএমডি-র কারিগরি সচিব নীলাদ্রি রায় অবশ্য জানান, হাসাপাতাল ও চিকৎসা কেন্দ্রগুলির উন্নয়নেপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু হবে।