জেলা তামাকমুক্ত করতে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। নানা প্রতিষ্ঠানে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। তারই মধ্যে স্কুলে চিঠি লেখার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পড়ুয়াদের দিয়ে অভিভাবকদের ধূমপান বন্ধের বার্তা দেওয়ায় উদ্যোগী হল আউশগ্রামের এক স্কুল।

আউশগ্রামের পিপিডি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম-দশম শ্রেণির জনা তিরিশ ‘কন্যাশ্রী’ ছাত্রীকে নিয়ে গত সপ্তাহে একটি চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় স্কুলের তরফে। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল, নিজের পরিজনদের তামাক বর্জনের আবেদন জানানো। সেই চিঠিতে মেয়েরা তাদের বাবা বা অন্য পরিজনকে সেই অনুরোধ জানিয়েছে। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষ চিঠিগুলি মেয়েদের অভিভাবকদের হাতে তুলেও দিয়েছেন।

বর্ধমান সদরের (উত্তর) মহকুমাশাসক পুষ্পেন্দু সরকার বলেন, “জেলাশাসক ১৫ অগস্টের মধ্যে জেলাকে তামাকমুক্ত করতে চাইছেন। তাঁর সেই উদ্যোগে পড়ুয়াদের এ ভাবে সামিল করা প্রশংসনীয় এবং অভিনব।’’ তাঁর হাত দিয়েই স্কুলের তরফে কয়েক জন অভিভাবকের হাতে সম্প্রতি চিঠিগুলি তুলে দেওয়া হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয়নাথ কোনার বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখনকার প্রজন্ম চিঠি লিখতে প্রায় ভুলে গিয়েছে। তাই এই ধরনের উদ্যোগ। সেই সঙ্গে সামাজিক সমস্যার সমাধান করারও চেষ্টা হয়েছে।’’ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের চিঠির বিষয় রাখা হয়েছিল, আঠারো বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়া। এ ক্ষেত্রেও ভালই সাড়া পড়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান।

ধূমপান ছাড়ার জন্য মেয়ের লেখা চিঠি পেয়ে কেউ অবাক, কেউ লজ্জিত হয়েছেন। অভিভাবক নিমাই ঘোষ, রতন মালাকারেরা বলেন, “ধূমপানে ক্ষতি হয় জানি। কিন্তু অভ্যাস ছাড়তে পারিনি। কিন্তু মেয়েদের কথা শুনতে হবে। স্কুলের এই উদ্যোগ বেশ ভাল।’’ দশম শ্রেণির শ্রীপর্ণা ঘোষ, অঙ্কিতা মালাকারেরা বলে, “বাবা আমাদের কথায় ধূমপান ছাড়তে চাইছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগছে।”