আগেও স্কুলের দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে বিরোধিতা করেছিলেন তাঁরা। এ বার সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের টিউশন পড়ানো অপরাধ, দাবি করে স্মারকলিপি দিলেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর ওয়েলফেয়ার সমিতি’র পূর্ব বর্ধমান জেলা শাখার সদস্যেরা।

সোমবার জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক)-র কাছে বর্ধমানের বেশ কিছু স্কুল শিক্ষকের নাম জমা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তাঁরা। ওই গৃহশিক্ষকদের দাবি, মানুষ গড়ার কারিগরেরাই আইন ভাঙছেন। নিয়ম মেনে মুচলেকা দেওয়ার পরেও স্কুল শিক্ষকদের একটা বড় অংশ টিউশন করছেন বলে জানান তাঁরা। 

যদিও বর্ধমান শহরের একটি স্কুলের শিক্ষক গদাধর হাজরার দাবি, ‘‘মুচলেকা দেওয়ার পরে গৃহশিক্ষকতা করা ছেড়ে দিয়েছি।’’ ওই স্কুলের আর এক শিক্ষক দিলীপ বিশ্বাসের আবার দাবি, “আমার স্ত্রী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি স্কুল ছেড়ে গৃহশিক্ষকতা করেন। আমরা দু’জনেই একই বিষয়ে পড়াতাম। সে জন্য মাঝেমধ্যে স্ত্রীর হয়ে পড়ুয়াদের ‘মনিটর’ তো করতেই হয়।’’

ওই সংগঠনের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী (আরটিই অ্যাক্ট সেকশন ২৮ ওয়েস্ট বেঙ্গল ভাইড মেমো নম্বর: ২১৪-এসই/এস/১০এম-০১/১৮, তারিখ: ০৮/০৩/২০১৮) স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা টিউশন করতে পারেন না। কিন্তু ঘটনা হল, রাজ্য জুড়েই এই প্রবণতা চলছে। সংগঠনের জেলার অন্যতম সম্পাদক রাজেশ সামন্তের দাবি, “সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা টিউশন করে যে রোজগার করছেন, তা সম্পূর্ণ কালো টাকা। আমরা চাই টিউশন বন্ধ করে তাঁরা স্কুলে মন দিন, যাতে পড়ুয়ারা স্কুলমুখী হয়।’’

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যায়, বাম আমলেই সরকারি স্কুল শিক্ষকদের টিউশন করা বন্ধের ব্যাপারে উদ্যোগ করা হয়। প্রতি ছ’মাস অন্তর শিক্ষকদের মুচলেকা দিয়ে ‘গৃহশিক্ষকতা করি না’ বলে জানাতেও হত। বর্তমানে ওই নিয়ম বলবৎ থাকলেও মুচলেকা দিতে হয় না। গত বছর ‘সবার জন্যে শিক্ষা’ আইনে ফের ওই নিয়ম চালু করার জন্যে প্রতিটি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার।

পূর্ব বর্ধমানের স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শ্রীধর প্রামাণিক বলেন, “প্রতিটি স্কুলে ওই নির্দেশিকা পাঠিয়ে কোন কোন শিক্ষক বা শিক্ষিকা গৃহশিক্ষকতা করেন তার তালিকা চাওয়া হয়েছে। ওই তালিকা পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিউশন করার নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। সে ব্যাপারেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।’’

তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের নেতা রথীন মল্লিকও বলেন, “এত দিন ওই নিয়ম খাতায়-কলমে ছিল। আশা করি, এ বার নিয়ম কার্যকর হবে।’’ এবিটিএ-র জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত গুপ্তর মন্তব্য, “নির্দেশিকাটা পরিষ্কার নয়। আমাদের পক্ষে কিছু বলা মুশকিল।’’