পুরসভায় ঢুকে বিধায়ককে হেনস্থা করার অভিযোগে ছয় মহিলাকে গ্রেফতার করল কাটোয়া থানার পুলিশ। বিধায়কের নিরাপত্তায় পুরসভায় রাখা হল এক মহিলা নিরাপত্তা রক্ষীকেও।

বুধবার দুপুরে কাটোয়া পুরসভায় মেয়ের বিয়ের টাকা চাওয়ার নাম করে পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে ঢোকেন কয়েকজন মহিলা। অভিযোগ, বিধায়কের হাত-পা ধরে টাকা চাইতে শুরু করেন তাঁরা। রবিবাবু বিকেলে এসে টাকা নিয়ে যেতে বললেও তাঁকে জোরাজুরি করা হয়। বারবার ঠিকানা জানতে চাইলে অসংলগ্ন উত্তর দেন ওই মহিলারা। কখনও ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কখনও ডোমপাড়া তো কখনও দাঁইহাট, ব্যান্ডেল, নবদ্বীপ, কাঁকিনাড়ার নাম করতে থাকেন তাঁরা। এতেই সন্দেহ হয় পুরপ্রধানের। সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃত লক্ষ্মী চৌধুরী, সোনিয়া মণ্ডল, মিনা সাউ, সোমা সিংহ, টুকু সাউ, দুর্গা ঘোষ উত্তর চব্বিশ পরগণার নৈহাটির গৌরীপুর চৌমাথার বাসিন্দা। ধৃতদের মধ্যে সোমা ও দুর্গাদেবী প্রৌঢ়া। এই ছ’জনকে বৃহস্পতিবার কাটোয়া আদালতে তোলা হলে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এ দিন আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে দুর্গাদেবীর দুই মেয়ে, পেশায় পরিচারিকা সন্ধ্যা ঘোষ, আরতী সিংহ বলেন, ‘‘মা দীর্ঘদিন ধরে নৈহাটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকেন। আমরা বারবার বললেও আমাদের সঙ্গে থাকেন না। ওই দলের সঙ্গে এত দূর কীভাবে চলে এলেন সেটাই বুঝতে পারছি না।’’

রবীন্দ্রনাথবাবু জানান, তাঁর দুজন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে যে দু’জন মহিলা নিরাপত্তারক্ষী গত দিন সাতেক ধরে ছিলেন না, তাঁদের এক জনকে পুরসভায় নিরাপত্তার কাজে ফের বহাল করা হয়েছে। পুরপ্রধান যতক্ষণ পুরসভায় থাকবেন ততক্ষণ ওই মহিলা নিরাপত্তারক্ষীও থাকবেন। পুরসভা সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগে তিন জন সন্দেহভাজন যুবককে পুরসভার আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জন পুরসভার ঠিক উল্টোদিকে শৌচাগারের পাশে, এক জন ডাকবাংলো রোডের দিকে ও এক জনকে লেনিন সরণির দিকে হাঁটাচলা করতে দেখা গেছে। ধৃত ছয় মহিলার সঙ্গেই তাঁরা ছিলেন বলে সন্দেহ রবীন্দ্রনাথবাবুর। তাঁর দাবি, মাস আটেক আগে তাঁর উপর হামলা হতে পারে, এমন খবর পেয়েছিলেন তিনি। পুলিশের দাবি, ওই মহিলাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে, ফোনে কথাবার্তার সম্পূর্ণ তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।