যে বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, সেটির প্রশ্নপত্র না আসায় পরীক্ষা দেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করলেন রানিগঞ্জ টিডিবি কলেজের শ’তিনেক পরীক্ষার্থী। প্রতিবাদে কলেজে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। শুক্রবারের ঘটনা। 

এ দিন রানিগঞ্জ টিডিবি কলেজের স্নাতক স্তরের বাণিজ্য বিভাগের ওই পড়ুয়াদের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল রানিগঞ্জ গার্লস কলেজ। ওই পরীক্ষার্থীরা সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, তৃতীয় সেমেস্টারে ‘ডিরেক্ট ট্যাক্স’ বিষয়ে তাঁরা এ দিন পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা নোটিস বোর্ডে তাঁদের নামের তালিকা ছিল না। শুধু তাই নয়, ওই কলেজের অধ্যক্ষার কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে গেলে আরও জানা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মানি মার্কেট’ বিষয়ের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। নেই ডিরেক্ট ট্যাক্সের প্রশ্নপত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, এর পরে ওই কলেজের অধ্যক্ষা জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁর বা তাঁর কলেজের কিছু করার নেই। এ দিন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ওই দু’টি বিষয়েরই পরীক্ষা ছিল।

এর পরেই ওই পরীক্ষার্থীদের একাংশ টিডিবি কলেজে ফিরে গিয়ে ওই কলেজের অধ্যক্ষ আশিসকুমার দে’কে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। আশিসবাবু দাবি করেন, ‘‘বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়েছে। পরে ‘ডিরেক্ট ট্যাক্সের’ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।”

কিন্তু এমন ঘটনা ঘটল কী ভাবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁরা জানান, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ডে ‘মানি মার্কেট’ বিষয়টিই লেখা ছিল। তা কলেজের নজরে আনা হলে অধ্যক্ষের পরামর্শ মতো অ্যাডমিট কার্ডে পেন দিয়ে ওই বিষয়টি কেটে লেখা হয় ‘ডিরেক্ট ট্যাক্স’। তাতে অধ্যক্ষের শিলমোহর পড়ে। অধ্যক্ষের হয়ে কলেজেরই ভারপ্রাপ্ত এক জন সই করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত অন্য একটি কলেজের অধ্যক্ষ জানান, অ্যাডমিট কার্ডে উল্লেখ থাকা বিষয় পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে নিয়মটি হল: সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী যে বিষয় নিয়ে পরীক্ষা দিতে চাইছেন, তা অ্যাডমিট কার্ডেই কলেজ অধ্যক্ষের সই-সহ উল্লেখ করে দিতে পারে। কিন্তু, তার পরে সেই কলেজের তরফে একটি ‘সংশোধনী ফর্ম’ পূরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। আশিসবাবুর দাবি, সেই ফর্ম পূরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোও হয়েছিল।

তা হলে তার পরেও এমন পরিস্থিতি কেন? এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সুবলচন্দ্র দে’র প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশোধনী ফর্ম এসেছিল কি না, তা এখনও দেখা হয়নি। তবে ভুল যারই হয়ে থাক, পড়ুয়াদের বিপাকে ফেলা হবে না। মে মাসে তাঁদের নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।”