শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। সেই ‘রোষে’ বিনা কারণে ভিন্-জেলায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে অমিতাভ গড়াই নামে বার্নপুরের শান্তিনগর প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষককে, এই অভিযোগে অভিভাবকদের একাংশ বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল গেটে বিক্ষোভ দেখালেন। এই পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণ পঠনপাঠনও বন্ধ ছিল।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চৈতালি পাল জানান, শিক্ষক অমিতাভ গড়াইকে পুরুলিয়ার ডোবাদিহি স্কুলে বদলি করা হয়েছে। গত ১২ মার্চ হিরাপুর শিক্ষা চক্রের স্কুল পরিদর্শক অক্ষয় ভট্টাচার্য নিজে এসে সেই বদলির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যান। এ বিষয়ে অমিতাভবাবু সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ‘‘কোনও কারণ ছাড়া চক্রান্ত করে এই বদলি করা হয়েছে।’’

ওই শিক্ষকের বদলির বিষয়টি জানাজানি হতেই পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। তার পরে এ দিন অভিভাবকদের একাংশ স্কুল গেটে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে যোগ দেয় পড়ুয়ারাও। পরে প্রধান শিক্ষিকা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললে বিক্ষোভ থামে। সমীর দাস নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‘প্রধান শিক্ষিকার আশ্বাসে আমরা বিক্ষোভ তুললাম। কিন্তু বদলি রদ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করব।’’ অভিভাবকদের আরও দাবি, ওই শিক্ষক খুবই যত্ন নিয়ে ক্লাস নেন। তাঁকে সরালে পড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। বদলি ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘‘ওই শিক্ষককে বদলি করা হলে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের ক্ষতি হবে। বৃহস্পতিবার অভিভাবকদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছি।’’

অভিভাবকদের একাংশের মতে, শিক্ষকদের দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলনে যোগ দেওয়াতেই ওই শিক্ষককে বদলি করা হচ্ছে, এমনই অভিযোগ উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন নামে একটি সংগঠনেরও। ওই সংগঠনের বর্ধমান জেলা সহ সভাপতি ভাস্কর ঘোষ নিজেদের সংগঠনকে ‘অরাজনৈতিক’ জানিয়ে এ বিষয়ে বলেন, ‘‘শিক্ষকদের বেতন পরিকাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়ে কলকাতায় আমরা আন্দোলন করেছিলাম। তাতে ওই শিক্ষক যোগ দিয়েছিলেন। তাই উনি চক্ষুশূল হয়েছেন।’’ যদিও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান আশিস দে’র বক্তব্য, ‘‘রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত সচিবের নির্দেশেই ওই শিক্ষককে পুরুলিয়ায় বদলি করা হয়েছে। কোনও অনিয়ম হয়নি।’’

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

শিক্ষকদের ওই সংগঠনটির দাবি, অমিতাভবাবু-সহ হিরাপুর শিক্ষা চক্রের মোট চার জন শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এই বদলির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতেও গিয়েছেন বলে জানান ভাস্করবাবু। যদিও ওই সংগঠনের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অক্ষয়বাবু।