ইটভাটায় ভাঙচুর-মারধর, সেখান থেকে অবৈধ মাটি পাচারের অভিযোগে নাম জড়াল তৃণমূলের।
সোমবার কালনার বিজয়নগর এলাকার একটি ইটভাটায় কয়েকজন দল বেঁধে ঢুকে ট্রাক্টর, ডাম্পার, জেসিবি যন্ত্রে ভাঙচুর চালায়। ভাঙা হয় একটি মোটরবাইক। পরে ভাটা থেকে শ্রমিকদের জিনিসপত্র জোর করে বার করে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। দুটি ইটভাটার ম্যানেজারকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ঘরে। পরে ভাটা মালিকদের তরফে পঙ্কজ পাল এ দিন বিকেলে তৃণমূল নেতা শঙ্কর হালদার-সহ ৯ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন।
শঙ্করবাবুর পাল্টা দাবি, পঙ্কজবাবুর দাদা সুব্রত পাল এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তাঁর মদতেই মাস খানেকের বেশি সময় ধরে চলছে অবৈধ মাটির কারবার। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ নিভুজি বাজারের কাছাকাছি বিজয়নগর এলাকায় ওই গোলমালে প্রচুর লোক জড়ো হয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রবিবার রবিউল শেখ নামে এক যুবককে ভাটা মালিকের লোকজনেরা বেধড়ক মারধর করে। অসুস্থ অবস্থায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। অন্যায় ভাবে মারধর করার জন্যই এ দিন উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ভাটা মালিকেরা যদিও মারধরের অভিযোগ মানেননি। তাঁদের দাবি, এ দিনের গোলমালে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পঙ্কজবাবুর দাবি, সম্প্রতি কালনা মহকুমাশাসকের দফতরের কাছে নজরে আসে অবৈধ মাটি কাটা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এ দিনের ঘটনা তারই জের বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্তেরা বেআইনি ভাবে মাটি কাটা চক্রে জড়িত। ভাগীরথীর চরে মাটি কাটার ঘটনায় পুলিশের নজর পড়ার দায় আমদের উপর চাপাচ্ছে ওরা।’’ কালনা থানায় থেকে বেরিয়ে সুব্রতবাবু দাবি করেন, ‘‘শঙ্কর হালদারের মদতে তাঁর লোকেরাই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। মাটি কারবারে ওঁরাই জড়িত।’’
শঙ্করবাবু অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘ঘটনায় আমার কোনও ভূমিকা নেই। ঝামেলা যাতে না হয় সে জন্য নিভুজি বাজার এলাকায় গিয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলাম আমি।’’ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘মাটির কারবার আমি নই সুব্রতবাবু চালান। মাস খানেক ধরে চাষিদের জমির প্রায় কোটি টাকার মাটি বিক্রি করেছেন উনি। চাষিরা প্রতিবাদ করতে গেলে মাসল্‌ম্যানদের লেলিয়ে দেন।’’ যদিও সুব্রতবাবুর পাল্টা দাবি, সরকারকে রয়্যালটি দিয়েই ইটভাটার মাটি জোগাড় করেন তিনি।
কালনায় বারবারই মাটি পাচারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের নজর শিথিল হলেই মাথাচারা দেয় কারবার। যথেচ্ছ মাটি কাটায় নষ্ট হয়ে যায় বহু চাষজমি। মহকুমাশাসক নীতিশ ঢালির আশ্বাস, ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছে।