• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভিত খোঁড়ার সময়ে মিলল পুরনো কাঠামো

main
ইটের এই কাঠামোই মিলেছে মাটির তলায়। ছবি: প্রদীপ মুখোপাধ্যায়

বাড়ির ভিত তৈরির জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন নির্মাণকর্মীরা। প্রায় চার ফুট খোঁড়ার পরেই ইটের গাঁথনি নজরে পড়ে তাঁদের। আরও কিছুটা খোঁড়ার পরে দেখা যায় একটি দেওয়াল। সেই দেওয়ালের ইট ছাড়িয়ে ভিতর যেতেই চোখে পড়ে প্রায় সাড়ে সাত ফুট লম্বা ও ফুট তিনেক চওড়া ইটের একটি কাঠামো। উচ্চতাও প্রায় তিন ফুট। ভাতারের মাহাতা গ্রামের মুসলিমপাড়ায় ওই কাঠামো নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলেনুর বিবির বাড়ির ভিত খোঁড়ার সময়ে শুক্রবার দুপুরে ওই কাঠামোর খোঁজ মেলে। সেটির ছবি দেখে কোন সময়ে গড়া হয়েছিল, সে নিয়ে উঠছে নানা মত। রাজ্য পুরাতত্ত্ব বিভাগের কর্তা দিলীপ দত্তগুপ্ত বলেন, ‘‘ছবি দেখে মনে হচ্ছে, চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর সময়কালে তৈরি, যার মধ্যে মুসলিম স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে। তবে আরও আশপাশের জায়গা খুঁটিয়ে দেখার পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’’ বিশ্বভারতীর প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুচিরা রায়চৌধুরীর আবার মত, ‘‘অষ্টাদশ শতকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মুসলিম স্থাপত্য বলে মনে হচ্ছে না। আরও বিশদে জানার জন্য পুরো এলাকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’’

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাতারের বিডিও শুভ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। পরে বিডিও বলেন, ‘‘মহকুমা প্রশাসনকে (বর্ধমান উত্তর) বিষয়টি জানানো হয়েছে। আপাতত ওই জায়গায় কোনও কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে।’’ জায়গাটি ঘিরে রেখে পাহারার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আতান্তরে পড়েছে বলে দাবি গোলেনুর বিবির পরিবারের। গোলেনুর বিবি বলেন, ‘‘বছর পাঁচেক আগে দেনা করে জায়গা কিনেছিলাম। তা শোধ করার পরে আবার জায়গা ধার নিয়ে বাড়ি তৈরিতে হাত দিয়েছিলাম।’’

স্থানীয় বাসিন্দা মুফতি মহম্মদ সেলিমের দাবি, এই জায়গাটি তাঁদের পূর্বপুরুষদের ছিল। তার পরে হাতবদল হয়ে চলে যায় বাংলাদেশের ময়নমনসিংহের সিংহরায় পরিবারের হাতে। গ্রামের আর এক বাসিন্দা নাজিম শেখ দাবি করেন, ‘‘ওই জায়গায় জুগি পুকুরের উত্তর পাড়ে ব্রিটিশদের তৈরি হাসপাতাল ছিল। এক বার বন্যায় পুকুরের পাড়ে থাকা হাসপাতাল-সহ অন্য ভবনও মাটির তলায় চাপা পড়ে যায়। তাই ওই কাঠামো ব্রিটিশ আমলেরও হতে পারে।’’

মহকুমাশাসক (বর্ধমান উত্তর) পুষ্পেন্দু সরকার বলেন, “ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জেলা থেকে তাদের চিঠি পাঠনো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সোমবার পুরাতত্ব সর্বেক্ষণের দল গ্রামে পৌঁছতে পারে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন