দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল একটির চালক-সহ চার জনের। বুধবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে পাণ্ডুয়ার বৈঁচিগ্রামের কাছে জি টি রোডে।

পুলিশ জানায়, মৃতেরা হলেন প্রাণেশ পাল (৪৮), উজ্জ্বল প্রামাণিক (৩৮), বুদ্ধ ঘোষ (৪০) এবং মহেশ হরি (৪৪)। সকলেই ব্যান্ডেলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। প্রাণেশ একটি খালি সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাক চালাচ্ছিলেন।  বাকি তিন জন ওই কেবিনেই ছিলেন। উল্টো দিক থেকে আসা ট্রাকটির ধাক্কায় চার জন সেখানেই পিষ্ট হয়ে যান। ট্রাকটি কাত হয়ে যায়। গ্যাস-কাটার এনে কেবিন কেটে দেহগুলি উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উজ্জ্বল, বুদ্ধ এবং মহেশ ব্যান্ডেলের এক রান্নার গ্যাসের ডিলারের অধীনে ‘ডেলিভারি বয়’-এর কাজ করতেন। এ দিন প্রাণেশের ট্রাকে তাঁরা সেই সিলিন্ডার বৈঁচির একটি সমবায়ে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে উল্টো দিক থেকে আসা ফাঁকা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাতেই ওই দুর্ঘটনা বলে পুলিশের অনুমান। তবে, সেই ট্রাকের চালক-খালাসিকে পুলিশ ধরতে পারেনি। দুর্ঘটনার পরে তাঁরা পালান। ঘটনাস্থলে আসেন হুগলি জেলা (গ্রামীণ) পুলিশের ডেপুটি সুপার (ডি অ্যান্ড টি) প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বৈঁচিগ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন, ‘‘বৃষ্টির জন্য রাস্তা ফাঁকাই ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। 

হঠাৎ বিকট আওয়াজ। গিয়ে দেখি ওই ঘটনা। সংঘর্ষের অভিঘাতে কয়েকটি সিলিন্ডার মাটিতে পড়ে গিয়েছিল।’’ 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ব্যান্ডেলের ওই ডিলার সংস্থার ম্যানেজার তরুণ দে। তিনি বলেন, ‘‘উজ্জ্বল, বুদ্ধ এবং মহেশ খুবই গরিব পরিবারের মানুষ। ওঁরা মূলত সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করতেন। কাজ করতে গিয়ে যে এ ভাবে বেঘোরে ওঁদের প্রাণ যাবে, ভাবতে পারছি না।’’