রাস্তার প্রস্থ ১৪ মিটার। তার মধ্যে ট্রলি সাজিয়ে হকারদের দখলে প্রায় ৫ মিটার। আরামবাগ শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মূল রাস্তাটির এই হালই প্রতিদিন অচল করে দিচ্ছে পুরো শহর। 

গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দখলমুক্ত করতে পুরসভার সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ। পুলিশ বিক্ষিপ্তভাবে উদ্যোগী হলেও কাজ হয়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার মহকুমা পূর্ত দফতর থেকে মাইকে ‘চূড়ান্তভাবে’ জানিয়ে দেওয়া হল আজ, শুক্রবারের মধ্যে জবরদখলকারীরা সরে না গেলে তাঁদের ট্রলি-ঠেলা সহ মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।

পূর্ত দফতরের আরামবাগ মহকুমা সহকারী বাস্তুকার (নির্মাণ) নিরঞ্জন বড় বলেন, “শহরকে যানজট মুক্ত করতে হলে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তাটির হকার উচ্ছেদের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে (পুরসভা এবং পুলিশ) বলা হয়েছিল। আমরা নোটিশও পাঠিয়েছি। কিন্তু হকার উচ্ছেদ হয়নি।’’ বিষয়টা মহকুমাশাসকের লক্ষ্মীভব্য তান্নিরু নজরে আনা হলে তাঁরই নির্দেশে এ দিন হকারদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকে প্রচার করা হয়। শুক্রবারের মধ্যে না সরলে শনিবার তাঁদের মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্য দিকে, রাস্তা জবরদখল করা ওই ব্যবসায়ী তথা হকার সংগঠনের পক্ষে নবকুমার পোড়েল বলেন, “পূর্ত দফতর আমাদের সরে যেতে একদিন মাত্র সময় দিয়েছে। অথচ ২০০৬ সাল নাগাদ নতুন বাসট্যান্ড হওয়া থেকেই আমরা রাস্তায় একধারে বসছি। পুরসভা থেকেও কিছু বলা হয়নি।’’ তাঁরা জানান, বৈঠকে স্থির হয়েছে, আজ কোনও জিনিস সরানো হবে না। প্রয়োজনে পথ অবরোধ করা হবে।

মহকুমা পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ শহর বাঁকুড়া, বর্ধমান, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া জেলা সহ দক্ষিণবঙ্গের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় দিন দিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। সেই অনুপাতে রাস্তা চওড়া নয়। শহরের বুকে পল্লিশ্রী থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার সুধানীল পর্যন্ত ১৪ মিটার চওড়া। বাকি সর্বত্র ৭ মিটার চওড়া। পূর্ত দফতরের মতে প্রতিদিন গাড়ির চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রাস্তাটি কম করে ২১ মিটার চওড়া হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু হকারদের দৌরাত্ম্যে ১৪ মিটার রাস্তাই ‘বাজেয়াপ্ত’ হয়ে গিয়েছে। এ দিকে পূর্ত দফতরের জায়গা আছে ৬০ মিটার থেকে ৮০ মিটার চওড়া। সেই সব জায়গার অধিকাংশই অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আরামবাগ বাসস্ট্যান্ডের সামনেই রাস্তার উল্টো দিকে সারি সারি ট্রলি নিয়ে হকারদের ফল ইত্যাদির সাজানো পসরায় ৫ মিটার বেদখল। মাত্র ৯ মিটার চওড়া রাস্তা থেকে একদিকে বাসগুলি বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার এবং অন্য দিক দিয়ে বের হওয়ার পথ। রাস্তা থেকে বাসস্ট্যান্ডে ঢুকতে বা বেরোতে বাসগুলো যখন মোড় নিচ্ছে তখনই যথেষ্ট জায়গার অভাবে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। সেই যানজট ছাড়াতে মূল ভরসা আবার সিভিক ভলান্টিয়ার। যাঁদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোন প্রশিক্ষণই নেই বলে অভিযোগ। তার জেরে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রোডটিও একেবারেই অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

পুরসভার বিরুদ্ধে পূর্ত দফতরের জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ আছে অনেক। হকারদের পুনর্বাসনের দাবি মেটাতে শহরের মধ্যে মূল রাস্তার কালীপুর এবং পল্লিশ্রী সংলগ্ন দুটি জায়গা দখল করে বছর খানেক আগেই মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির অভিযোগ ওঠে। ওই দুটি মার্কেট ছাড়াও শহরের গৌরহাটি হকার্স কর্নার, মিনি মার্কেটও পূর্ত দফতরের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। পূর্ত দফতরের জায়গা বেআইনিভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগও আছে পুরসভার বিরুদ্ধে।

পূর্ত দফতরের জায়গা জবরদখলের অভিযোগ নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর বক্তব্য, “রাস্তা সম্প্রসারণ করতে পূর্ত দফতর যে সব হকারদের উচ্ছেদ করেছে, তাঁদেরই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছি আমরা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ হকারদের ভাত মারা যাবে না। তাছাড়া শহরটা সুন্দর করতেও আমরা দায়বদ্ধ।” সম্প্রতি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তা জবরদখল নিয়ে তিনি বলেন, “যানজট মুক্ত করতে বা রাস্তা সম্প্রসারণ করতে উচ্ছেদ করা হলে, তাদের পুনর্বাসন নিয়ে ভাবতে হবে।”