কিষান বিকাশপত্র স্কিমে মিলছে না শংসাপত্র। এই চিত্র দেখা যাচ্ছে হাওড়ায় জেলা জুড়ে বিভিন্ন ডাকঘরে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ফের কিষাণ বিকাশপত্র চালু করেছে। কিন্তু স্বল্প সঞ্চয়ের এই স্কিমটি ফের চালু করা হলেও হাওড়ায় শংসাপত্র না-মেলার ফলে প্রকল্পটি এই জেলায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকার ফের ডাকঘরে এই স্কিম চালু করলেও হাওড়া জেলায় কার্যত তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফলে ডাকঘরে সঞ্চয়ের পরিমাণ যেমন কমছে তেমনই সমস্যায় পড়েছেন এজেন্টরা। আয় কমছে তাঁদের।

জেলার সহকারী ডাকঘরগুলির তরফে বলা হচ্ছে জেলার মুখ্য ডাকঘর থেকে তাদের ওই শংসাপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে না। মুখ্য ডাকঘর সূত্রে আবার জানানো হয়েছে ডাকঘর বিভাগের রাজ্য দফতর থেকে তাঁদের শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না। হাওড়ার সিনিয়ার পোস্ট মাস্টার (হেড অফিস) বিদ্যুত্‌কুমার রায় বলেন, “সাব পোস্ট অফিসে দেওয়ার মতো শংসাপত্র আমাদের মজুত নেই। থাকলে দিয়ে দেওয়া হত।” যদিও রাজ্যের ডাকঘর বিভাগের ডিরেক্টর (দক্ষিণবঙ্গ) রাজীব ওমরাও বলেন, “এমনটা হওয়ার কথা নয়। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

জেলা ডাকধর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া জেলায় ৯৬টি সহকারী ডাকঘর রয়েছে। যেখান থেকে মাসে কমপক্ষে ৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু কয়েকমাস ধরে কোনও এইসব ডাকঘরে ব্যবসা হয়েছে গড়ে ১০ লক্ষ টাকা করে। বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থায় টাকা রেখে প্রতারিত হওয়া থেকে বাঁচতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে টাকা রাখতে জনগণের কাছে প্রচার করছে। সম্প্রতি এই স্কিমে আমানত দ্বিগুণ করার ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়িয়ে সময়সীমা ৮ বছর ৭ মাস থেকে কমিয়ে ৮ বছর ৪ মাস করা হয়েছে। তা ছাড়া অন্য সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজনে আমানতকারী আড়াই বছর পরে টাকা তুলতে পারেন আসল টাকার সমানুপাতিক হারে সুদ-সহ। প্রয়োজনে কিষান বিকাশ পত্র ব্যাঙ্কে জমা রেখে আমানতকারী ঋণও পেতে পারেন। পাশাপাশি স্বল্প সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়লে রাজ্য সরকার এখান থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারবে।

গত কয়েক বছরে সারদা-সহ বিভিন্ন অর্থ লগ্নি সংস্থার রমরমায় ডাকঘরে স্বল্প সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রাজ্য সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এই অবস্থায় ফের স্বল্প সঞ্চল প্রকল্পে টাকা রাখতে সাধারণ মানুষকে উত্‌সাহিত করতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু কিষান বিকাশ পত্র নিয়ে এমন সমস্যা দেওয়া দেওয়ায় সেই ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।