তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল মঙ্গলবার। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাতে তাঁর মৃতদেহ মিলল রেললাইন থেকে। রিষড়ার খটিরবাজার এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ সাউ (৩২) নামে ওই যুবক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে রেল পুলিশের অনুমান।

তবে, এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিরই এক সদস্যের প্রশ্ন, ‘‘হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন আছে। কী করে রোগী পালান? বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির হওয়া উচিত।’’ হুগলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কোন পরিস্থিতিতে ওই রোগী হাসপাতাল থেকে চলে গেলেন, এতে কারও গাফিলতি ছিল কিনা, সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

রেল পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্বর, বমি ও মাথার যন্ত্রণার উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে ওয়ালশে ভর্তি হন জগন্নাথ। তিনি মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। লিভার খারাপ হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই তাঁর জ্বর হচ্ছিল। তবু মদ্যপান থামাননি। মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। এর আগেও তাঁকে কয়েকবার ভর্তি করানো হয়েছে। আগেও মাঝেমধ্যে হাসপাতাল থেকে তিনি পালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী এবং বাবা-মা জগন্নাথকে তাঁকে দেখে যান। বিকেলে কোনও ভাবে নিরাপত্তা রক্ষীদের নজর এড়িয়ে তিনি পালান।

রাতে শ্রীরামপুর বনমালী স্কুলের কাছে রেললাইনের ধার থেকে দেহটি উদ্ধারের পরে রেল পুলিশ তাঁর জামার পকেট থেকে কাগজে লেখা একটি ফোন নম্বর পায়। সেই সূত্রেই জগন্নাথের পরিচয় জানতে পারেন তারা। দেহটি শনাক্ত করেন জগন্নাথের বাড়ির লোকেরা। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।