ঘোষণা হয়েছিল দু’বছর আগে। যাবতীয় প্রস্তুতির পরে শীঘ্রই ‘আলোর শহর’ চন্দননগরের কেএমডিএ পার্কে আলো-হাবের কাজ শুরু হতে চলেছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। এ জন্য ১১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকাও ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে।

জেলা পূর্ত দফতরের (সোশ্যাল সেক্টর) এগ্‌জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার জানান, ওয়ার্ক-অর্ডার হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। চন্দননগরের পুর কমিশনার স্বপন কুণ্ডু বলেন, ‘‘আলোকশিল্পের সমৃদ্ধির জন্য গবেষণা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত সুবিধা— সবই থাকবে হাবে। প্রকল্পটি চালু হলে এখানকার আলোকশিল্পী এবং ভবিষ্যৎ প্রজ‌ন্ম ভীষণ উপকৃত হবে। যোগাযোগের দিক থেকেও জায়গাটির অবস্থান সুবিধাজনক।’’

চন্দননগর স্টেশন লাগোয়া কেএমডিএ পার্কে আলো-হাবের জমি ঠিক হয় আগেই। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখানে দু’বিঘা জমিতে ওই প্রকল্প হবে। চার তলা ভবন করবে পূর্ত দফতর। হাবে কর্মশালা হবে। শিল্পীদের ঘর দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। আলোকসজ্জা প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। শিল্পীরা যাতে বাজার পান, সে জন্য বিপণনের বিষয়টিও দেখা হবে।

গঙ্গাপাড়ের এই শহরে আলোর ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। শিল্পের বিবর্তনে এক সময় টুনি বাল্‌ব আসে। পরে টুনির জায়গা দখল করে এলইডি। এলইডির তীক্ষ্ম আলো থেকে টুনির মতো নরম আলোয় ফেরার চেষ্টাও চলছে বর্তমানে। অনেকদিন আগেই রাজ্যের সীমা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় প্রশংসা কুড়িয়েছে এখানকার আলোকসজ্জা। কিন্তু শিল্প হিসেবে তা কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছয়নি বলেই এর সঙ্গে যুক্ত লোকজন মনে করেন। শহরে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আলো তৈরির কারখানাগুলি। এক-একটি কারখানা বেশ কিছু যুবকের কর্মসংস্থানের ঠিকানা। কয়েকশো পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

এই শিল্পকেই সংগঠিত করে এক ছাতার তলায় আনতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৭ সালের জুন মাসে হুগলিতে প্রশাসনিক বৈঠকে এসে চন্দননগরে আলো-হাব তৈরির কথা ঘোষণা করেন। শুক্রবার তারকেশ্বরে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চেও মুখ্যমন্ত্রী ফের এই প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। সে দিনই জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা প্রকল্প এলাকায় যান। 

হাব নিয়ে উৎসাহ প্রকাশ করছেন শহরের আলোকশিল্পীরা। শুরু হয়েছে অপেক্ষাও। ফটকগোড়ার বাউড়িপাড়ার আলোকশিল্পী পিন্টু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাব তৈরির কথা জেনেছি সংবাদমাধ্যমেই। কিন্তু ওখানে ঠিক কী পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা থাকবে, কিছুই জানি না। তবে এক ছাদের তলায় যাবতীয় ব্যবস্থা হলে ভালই হবে।’’ ডুপ্লেক্সপট্টি দিঘির ধারের আর এক আলোকশিল্পী অসীম দে বলেন, ‘‘পুরসভায় হাব নিয়ে একটা বৈঠকে ছিলাম। মনে হয় আলো সংক্রান্ত পরিকাঠামোর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, এটিএম, হোটেল— এ সবও ওখানে দরকার।হাব হলে দেশের বাইরেও হয়তো আরও বেশি কাজের সুযোগ মিলবে। শিক্ষিত ছেলেরাও এই পেশায় আসবে।’’