রাম-রাজ্য হবে পশ্চিমবঙ্গও, দাবি যোগীর
বাঁশবেড়িয়ার পঞ্চাননতলা মাঠে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে এ দিন নির্বাচনী জনসভা করতে এসেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ।
Yogi

তাঁর শাসনকালে গোরক্ষকদের তাণ্ডব সামনে এসেছে। দু’বছর আগে গোরক্ষপুরের বিআরডি হাসপাতালে পরপর শিশুমৃত্যু নিয়ে তোলপাড় হয়েছে গোটা দেশ। পুলিশি সন্ত্রাস নিয়েও অভিযোগ কম নেই। যোগী-রাজ্য উত্তরপ্রদেশে ‘সুশাসন’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। উত্তরপ্রদেশের সেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সোমবার এ রাজ্যের বাঁশবেড়িয়ায় এসে দাবি করে গেলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও রাম-রাজ্য আর দূরে নেই।’’

বাঁশবেড়িয়ার পঞ্চাননতলা মাঠে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে এ দিন নির্বাচনী জনসভা করতে এসেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেখানেই পদে পদে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের তুলনা টানতে গিয়ে ওই দাবি করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের থেকে গুন্ডা-কর তোলা বন্ধ হবে। যেমনটা হয়েছে উত্তরপ্রেদেশের বিজেপি-র মাত্র দু’বছরের শাসনে। উত্তরপ্রদেশের চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পান, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অফিসাররা পান না। ওখানে চালু হয়ে গিয়েছে সপ্তম বেতন কমিশন।’’

টানা ৩৩ মিনিট ভাষণ দেন যোগী। যখনই তিনি দু’রাজ্যের তুলনা করেছেন, উপচে পড়া মাঠ আন্দোলিত হয়েছে। শোনা গিয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’। যোগী বলেন, ‘‘মা-গঙ্গা এ রাজ্য দিয়েও বয়ে চলেছে। কিন্তু গঙ্গার দূষণ রোধে রাজ্য সরকার কিছুই করেনি। আমরা যে দক্ষতার সঙ্গে কুম্ভমেলা পরিচালনা করি, পৃথিবী তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এ রাজ্যের সরকার দুর্গাপুজো আর মহরম একসঙ্গে করার অনুমতি দেয়নি। আমাদের দল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট রায়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের উদাহরণ দিয়ে বলে, ওই রাজ্যে যখন মহরম এবং দুর্গাপুজো একসঙ্গে করেছে, তখন পশ্চিমবঙ্গে হবে না কেন?’’ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা বলতে গিয়ে এ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান’ প্রকল্প কার্যকর না-হওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি যোগী।

বাঁশবেড়িয়া পুরসভা তৃণমূলের দখলে রয়েছে। গত পুরভোটে সেখানে সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। এলাকার বিধায়কও তৃণমূলের। এ দিনের সভার ভিড় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে শাসকদলের নেতাদের একাংশের কপালে। চড়া বিকিয়েছে মোদীর মুখোশ। পুরপ্রধান তৃণমূলের অরিজিতা শীল অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘বাইরে থেকে লোক এনে মাঠ ভরানো যায়। কিন্তু ভোটের বাক্স নয়। আমরা পুর এলাকায় উন্নয়নের কাজই আমার প্রত্যয়ের মূল কারণ।’’ কৃষি বিপণনমন্ত্রী তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্তও বলেন, ‘‘উনি (যোগী আদিত্যনাথ) দিবাস্বপ্ন দেখছেন। ২৩ মে বিজেপির হুগলি লোকসভা কেন্দ্র জয়ের খোয়াব 

উবে যাবে।’’