প্রতিদিন স্বামীর নেশা করার প্রতিবাদ করতেন স্ত্রী। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে অশান্তি লেগেই ছিল। রবিবার রাতেও দু’জনের বচসা হয়। তার পরিণতিতে স্ত্রীকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল স্বামীর বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে বাড়ির কাছেই জামগাছ থেকে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ মিলল। নীচে পড়েছিল রক্তমাখা কুড়ুলটিও।

চণ্ডীতলার কাপাসহাড়িয়ার দক্ষিণপাড়া এলাকার ঘটনা। মৃতের নাম শেখ সরিফ (৪৩)। তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রবিবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রথমে চণ্ডীতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে শ্রীরামপুর ওয়ালশ এবং পরে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে স্থানান্তরিত করানো হয়। তাঁর ডান চোখ থেকে মাথা পর্যন্ত কুড়ুলের কোপ পড়েছে। তদন্তকারী এবং ওই পরিবারের লোকজনের অনুমান, স্ত্রী মারা গিয়েছেন ধরে নিয়ে শরিফ আত্মঘাতী হয়েছেন।

হুগলি জেলা (গ্রামীণ) পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই মহিলার অবস্থা বেশ গুরুতর। তিনি কিছুটা সুস্থ হলে কোন পরিপ্রেক্ষিতে ওই ঘটনা, তার সবটাই জানা যাবে। এ নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। কুড়ুলটি উদ্ধার করা হয়েছে।’’ মৃতের ভাইপো শেখ সাহেব জানিয়েছেন, ইদানীং কাকা নেশার মাত্রা বাড়িয়েছিলেন। মদ্যপান ছাড়াও অন্য নেশা করতেন। বাড়িতে অশান্তি লেগে থাকত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর নয়েক আগে সিঙ্গুরের বড়ার ঠাকুরহাটের বাসিন্দা সুরাইয়ার সঙ্গে শরিফের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে, এক মেয়ে। নেশাতেই সব টাকা উড়িয়ে দিতেন ওই দিনমজুর। ফলে, দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খেতেন সুরাইয়া। এ নিয়ে দু’জনের বিবাদ চলছিল। রবিবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ সকলে যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখন ফের সুরাইয়ার সঙ্গে তাঁর স্বামীর বচসা শুরু হয়। হঠাৎই তাঁদের ছেলমেয়েরা কাঁদতে কাঁদতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। সুরাইয়ার আর্ত চিৎকারও শুনতে পান অনেকে। পড়শি এবং আত্মীয়েরা এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সুরাইয়া। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সকলে যখন ব্যস্ত, সেই ফাঁকে শরিফ সরে পড়েন। সোমবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তে পাঠায়।