বড়দের মধ্যে বচসা। তার জেরে দশ বছরের এক বালিকার গায়ে অ্যাসিড ছোড়ার অভিযোগ উঠল এক প্রতিবেশী প্রৌঢ় এবং তার জামাইয়ের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাতে পান্ডুয়ার সিমলাগড়ের মাঠপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, বছর দশেকের সোনিয়া খাতুন নামে ওই বালিকা নিজের বাড়ির বারান্দাতেই অ্যাসিডে আক্রান্ত হয়। তার মা হামিদা বিবির অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের পড়শি শেখ খলিল নামে ওই প্রৌঢ়কে। অপর অভিযুক্ত পলাতক। 

হুগলি জেলা (গ্রামীণ) পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘পলাতক শেখ সফিকুলের খোঁজ চলছে। অভিযুক্তেরা কোথা থেকে অ্যাসিড পেয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে খবর, মাঠপাড়ায় দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন হামিদা বিবি। তিনি মাছ বিক্রি করেন। স্বামী মারা গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজের বাড়ির সামনে একটি নর্দমা তৈরি করাচ্ছিলেন। খলিল তাতে আপত্তি করে। দু’পক্ষের বচসা হয়। হামিদার অভিযোগ, খলিল তাঁকে মারধর, গালিগালাজ করে। ওই দিনই তিনি পান্ডুয়া থানায় খলিলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন‌। অভিযোগ, সেই রাগে শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ সোনিয়ার গায়ে অ্যাসিড ছুড়ে পালায় খলিল এবং সফিকুল। মেয়েটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে। তাকে পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিবার হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

হামিদা বলেন, ‘‘আমরা ভেবেছিলাম, গরম জল ছুড়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাসিড। ঘটনার সময় পাশেই একটি বাড়িতে গিয়েছিলাম। মেয়ে বারান্দায় বসেছিল। তখনই ওরা ওই ঘটনা ঘটায়। মেয়ের হাত, নাক, গলার নীচের অংশ অ্যাসিডে পুড়ে গিয়েছে। এইটুকু মেয়ের উপরে ওরা শোধ তুলবে!’’ আক্রান্ত মেয়েটি বলে, ‘‘আমি বারান্দায় বসেছিলাম। খলিল চাচা গরম কী একটা ছুড়ে পালিয়ে যায়। আমার গা পুড়ে যাচ্ছিল। চাচার সঙ্গে আরও এক জন ছি‌ল।’’

রবিবার রাতে খলিল এবং সফিকুলের বিরুদ্ধে পান্ডুয়া থান‌ায় অভিযোগ দায়ের করেন হামিদা। তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ধৃত খলিলকে সোমবার চুঁচুড়া আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাকে  ১৪ দিন জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।