• দেবাশিস দাশ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হাওড়া জেলা হাসপাতালের ছবি

রোগীর সারি সিঁড়ি ছাড়িয়ে চাতালেও

Patients
অব্যবস্থা: হাওড়া জেলা হাসপাতালের চাতালে এ ভাবেই পড়ে রোগীরা। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার

গত দু’মাস ধরে মেল বা ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ডগুলির বেড ভর্তি হয়ে রয়েছে সব সময়েই। বর্তমানে ওয়ার্ডের ভিতরে মেঝেতেও আর জায়গা নেই। এমনকী, ওয়ার্ডের বাইরে লম্বা দালানের দু’পাশ ভর্তি হয়ে গিয়েছে রোগীর সারিতে। জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে আসা রোগীদের শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়েছে হাসপাতালের চাতালে। সেখানেই চলছে স্যালাইন।

এটাই হাওড়া জেলা হাসপাতালের বর্তমান ছবি। হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন করে জ্বরের রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন। ‘রেফার’ যাতে কম করতে হয়, তাই কাউকেই না ফিরিয়ে ভর্তি করে নেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই রোগীদের জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে।

সামগ্রিক ভাবে গোটা হাওড়া জেলার একমাত্র সরকারি বড় হাসপাতাল হল এই হাসপাতাল। ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর চাপ তাই এমনিতেই বেশি থাকে। গত দু’-এক মাস ধরে এই চাপ যেন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শহর ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের রোগীরা যেমন আসছেন, তেমনই বিভিন্ন জেলার মহকুমা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকেও রেফার হয়ে রোগীরা সরাসরি হাওড়া হাসপাতালে ভর্তি হতে আসছেন। যার ফলে আউটডোর ক্লিনিকে সকাল থেকে রোগী ও তাঁদের পরিজনেদের ভিড় উপছে পড়ছে, তেমনই আউটডোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে জরুরি বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক বছরের মধ্যে হাওড়া জেলা হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিবেশ ও পরিচ্ছনতার অনেকটাই পরিবর্তন হলেও হাসপাতালের রোগী পরিষেবার ক্ষেত্রে যে এখনও বেশ ঘাটতি থেকে গিয়েছে, তা সোমবার ঘণ্টা দুয়েক হাসপাতালে ঘুরেই মালুম হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ওই হাসপাতালে চালু হয়নি ফিভার ক্লিনিক। যে কারণে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসারও ব্যবস্থা হয়নি। চিকিৎসকদের দাবি, জ্বর নিয়ে প্রচুর রোগী ভর্তি হলেও এঁদের মধ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেশ কম।

জরুরি বিভাগের ভিতরে সিমেন্টের বেঞ্চে শুয়ে থাকা এক বৃদ্ধার শরীরে দেওয়া স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক তরুণী। শিবপুর ব্যাতাইতলার বাসিন্দা রহিমা খাতুন নামে ওই তরুণী জানান, গত চার দিন ধরে তাঁর মা মর্জিনা বেগমের জ্বর কমছে না। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে দেখানোর পরে জ্বর না কমায় তাঁরা গিয়েছিলেন সাউথ হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে রেফার করে দেন। ওই তরুণীর অভিযোগ, দেড় ঘণ্টা হয়ে গেলও রোগীকে নিয়ে এক ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। তরুণী বলেন, ‘‘দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, অথচ কোনও চিকিৎসক মাকে দেখেননি বা ভর্তির কোনও ব্যবস্থা নেননি। এখানে এই ভাবে পড়ে থাকলে মাকে আর বাঁচাতে পারব না।’’ অগত্যা ওই তরুণী মাকে নিয়ে কলকাতার কোনও হাসপাতালে ভর্তির জন্য রওনা দেন।

একই অবস্থা রোহিত যাদবের। বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা আট বছরের রোহিতের গত পাঁচ দিন ধরে জ্বর কমছে না। শেষে হাসপাতালে এনেছিলেন তার বাবা-মা। বাবা প্রণয় যাদব জানান, তিনি প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এখনও ভর্তির টিকিট করাতে পারেননি।

মেন বিল্ডিংয়ে তিনতলার সিঁড়ির চাতাল থেকে লিফটের সামনে মেঝেতে শুয়েছিলেন আসিফ মালিক। জানালেন গত শনিবার থেকে ভর্তি রয়েছেন। জ্বরও কমেছে। কিন্তু প্রথম দিন এক বার চিকিৎসক তাঁকে দেখেছিলেন, তার পর থেকে আর কেউ আসেননি। ডাক্তাদের নিয়মিত দেখা না পাওয়া এবং তার জন্য ঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ওয়ার্ডেই।

হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই অভিযোগ ঠিক নয়। রোগীর এই চাপ সত্ত্বেও আমরা দিবারাত্র চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি। জ্বরের আলাদা ক্লিনিক না করলেও জ্বরের চিকিৎসা ঠিক মতোই হচ্ছে।’’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস বলেন, ‘‘এ বার জ্বরের প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। হা‌ওড়া হাসপাতালে যত জন রোগী নেওয়ার ক্ষমতা আছে, তার দ্বিগুনেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। তবে ওষুধ বা চিকিৎসার অভাব হচ্ছে বলে কোনও অভিযোগ আসেনি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন