তাঁর রক্তে চিনি। তাতে কী!

বৃহস্পতিবার ‘ডায়াবিটিস দিবসে’ অসুখ ভুলে প্রকাশ্যে রসগোল্লায় কামড় বসালেন চুঁচুড়ার পাঙ্খাটুলির বাসিন্দা স্বর্ণালি দে এবং তাঁর মতো আরও অনেকে। এ দিন যে ‘রসগোল্লা দিবস’ও। স্বর্ণালিদেবীর কথায়,  ‘‘আমি ডায়াবিটিসের রোগী। ডাক্তারের নির্দেশে মিষ্টি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আজ এমন উৎসব সামলাতে পারলাম না। রসগোল্লার সঙ্গে বাঙালির যে নাড়ির টান!’’

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুঁচুড়া শহর মজে রইল রসগোল্লাতেই। ‘স্বতন্ত্র হুগলি জেলা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি’র তরফে চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ে রসগোল্লা বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রসগোল্লা এনেছিলেন মিষ্টির কারবারিরা। রীতিমতো মঞ্চ বেঁধে গামলাভর্তি রসগোল্লা সাজিয়ে বসেছিলেন তাঁরা। শালপাতার বাটিতে বড় বড় দু’টি রসগোল্লা খেয়েও অনেককে ফের দেখা গেল দাঁড়িয়ে পড়েছেন। কেউ আবার আঙুলে লেগে থাকা রসের শেষ বিন্দুটা পর্যন্ত চেটেপুটে খেয়েছেন। ছেলেবেলায় কত রসগোল্লা নিকেশ করতে পারতেন, সেই গল্পও উঠে আসছিল প্রৌঢ়ের মুখে। রসগোল্লায় ছোট্ট কামড় বসিয়ে তা শুনেছে স্কুলছাত্রী। সব মিলিয়ে জমে গিয়েছে ‘রসগোল্লা উৎসব’। কয়েক দিন আগেই চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোয় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বাংলায় এখন ৩৬৫ দিনে ৩৬৬ উৎসব’। বাংলার উৎসব-ক্যালেন্ডারে এই দিনটি যেন নবতম সংযোজন!

২০১৭ সালের এই দিনেই ‘জিআই’ (জিয়োগ্রাফিক ইন্ডিকেশন) তকমা পায় বাংলার রসগোল্লা। কিন্তু সেই স্বীকৃতি তেমন ভাবে উপভোগ করা যায়নি পড়শি রাজ্য ওড়িশার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের একাংশের আপত্তিতে। ওই রাজ্যের রসগোল্লাও পরে ‘জিআই’ তকমা পেয়েছে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের তরফে বাংলার রসগোল্লার কিছু দাবি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। বিষয়টি গড়ায় চেন্নাইতে জিআই নথিভুক্তি দফতরে। সম্প্রতি সেই আপত্তি খারিজ হয়ে যায়। স্বীকৃতি ‘কলুষমুক্ত’ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন এ রাজ্যের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। উচ্ছ্বাস রাজ্য প্রশাসনেও। এ বার বিশ্বের দরবারে রসগোল্লার স্বাদ পৌঁছে দিতে চান তাঁরা।

মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানান, নবান্নের নির্দেশে এ দিন বিভিন্ন জেলায় ‘রসগোল্লা দিবস’ পালন করা হচ্ছে। বেলা তিনটে নাগাদ চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার একটি শিশুকে রসগোল্লা খাইয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। ততক্ষণে কয়েক হাজার রসগোল্লাপ্রেমীর লাইন পড়ে গিয়েছে সেখানে। পথচলতি মানুষ থেকে গাড়িচালক, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দোকানদার— রসনা তৃপ্তির সুযোগ হারাতে চাননি কেউ। ভিড় সামাল দিতে রাস্তায় নামতে হয় পুলিশকে।

ওই ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শৈবাল মোদকের হিসেব বলছে, দু’ঘণ্টায় ২৫ হাজার রসগোল্লা বিতরণের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। সেই সংখ্যা ৪০ হাজার ছাপিয়ে গিয়েছে। মিষ্টি ব্যবসায়ী অমিতাভ দে বলেন, ‘‘এমন উন্মাদনায় আমাদের আয়োজন সার্থক। প্রতি বছর এই উৎসব পালনের চেষ্টা করব।’’ 

এদিন বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের রসগোল্লা খাওয়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।