তিন দিনের পরীক্ষাতেই হাজির ছিলেন। সইও করেছেন হাজিরা খাতায়। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফলে তাঁকে অনুপস্থিত দেখাচ্ছে।
১০০ নম্বরের পরীক্ষায় কারও প্রাপ্তিযোগ ১০৫ কারও আবার ১১২!
ডিএলএড (শিক্ষক প্রশিক্ষণ) পরীক্ষার ২০১৮ সালের প্রথম সেমেস্টারের এমন ফল দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে শিক্ষকদের। পরীক্ষা দিয়েও কেউ ফলাফলে অনুপস্থিত হয়ে গিয়েছেন। আবার কোনও বিষয়ের পূর্ণ নম্বরের থেকে বেশি পেয়েছেন অনেক প্রার্থী। এমনই ঘটনা  ঘটেছে হাওড়ার পাঁচলার গঙ্গাধরপুর শিক্ষণ মন্দিরে।
কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুল’-এর তত্ত্বাবধানে হাওড়া জেলার মোট ছয়টি বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ডিএলএড পড়ানো হচ্ছে। এইসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষকের পরীক্ষার আসন পড়ে গঙ্গাধরপুরে। সম্প্রতি ফল প্রকাশ করেছে এনআইওএস। সেখানেই সামনে এসেছে এমন গরমিলের ছবি।অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াচ্ছেন এমন প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক, পার্শ্বশিক্ষক, এসএসকে এবং এমএসকে-এর শিক্ষকদের ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএলএড-এর প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে। রাজ্যে এমন শিক্ষকদের সংখ্যা লক্ষাধিক। তাঁদের মধ্যে একটি অংশকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে ডিএলএড প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রাজ্য প্রাথমিক স্কুল 
শিক্ষা দফতর। বাকিদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে এনআইওএস-এর তত্ত্বাবধানে। বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষক কেন্দ্রে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এনআইওএস—এর প্রশিক্ষকরা। কোর্সটির মেয়াদ দুই বছরের। গত মে মাসে তিনটি বিষয়ে তাঁদের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা হয়। শুক্রবার ফল প্রকাশ করে এনআইওএস। 
ফলে দেখা যায়, এই কেন্দ্রের ৬০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশই একটি বা দু’টি বিষয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন। অনেকে আবার ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ১০১, ১১০ বা ১১৬। সোমবার ফলাফল দেখে গঙ্গাধরপুর শিক্ষণ মন্দিরে ভিড় করেন শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষায় বসেছেন অথচ ফলাফলে তাঁদের অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ১০০-র মধ্যে ১০১, ১১০ বা ১১৬ নম্বর পাওয়াতেও অনেকে বিস্মিত হন। 
তিনটি বিষয়ের জন্য তিনদিন পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। ওই তিন দিনই পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন উত্তরপাড়ার বাসিন্দা তথা আন্দুলের এক স্কুলের শিক্ষিকা। কিন্তু পরীক্ষার ফলে তাঁকে একদিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘তিনদিনই পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি হাজিরা শিটে সই করেছি। তারপরও কেন এমন হল, বুঝতে পারছি না।’’ 
শিক্ষণ মন্দিরের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত শঙ্কর খাঁড়া বলেন, ‘‘ফলাফলে যাঁদের অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে তাঁরা সকলেই যে পরীক্ষার দিনে হাজির ছিলেন তার প্রমাণ আছে। কাগজ এনআইওএস-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।’’ এনআইওএস-এর পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের পক্ষ থেকে এই ত্রুটির কথা স্বীকার করা হয়েছে। এই দফতরের এক কর্তা জানান, রাজ্যের আরও কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রের এমন ফলের খবর এসেছে। কম্পিউটারে আপলোড করার সময়ে এমন হয়েছে বলে অনুমান। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির থেকে কাগজএলে ত্রুটি সংশোধন করে দেওয়া হবে।