‘এখানে দাঁড়াবেন না।’ অপেক্ষমান যাত্রীর উত্তর, ‘কেন? রাস্তার ধারেই তো দাঁড়িয়েছি।’ উত্তর এল, ‘এখানে কোনও বাস দাঁড়াবে না।’

এক যাত্রী ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে এই কথোপকথনের মধ্যেই চলে এল একটি বাস। যাত্রী হাত দেখালেও লাঠিধারী পুলিশ দেখে দাঁড়ানোর সাহস দেখালেন না বাসচালক। অগত্যা যাত্রীটিও নির্দিষ্ট বাস স্ট্যান্ডে চলে গেলেন। দু’ নম্বর জাতীয় সড়কের বালি হল্ট সেতুতে যাত্রী-পুলিশের নিত্য বাকবিতণ্ডার একটি ছবি।

বাস কিংবা অটোর প্রতীক্ষায় যত্র তত্র দাঁড়ানো যাবে না। যেখানে সেখানে পার্কিং করা যাবে না। বাস, অটোকে নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড়াতে হবে। রাস্তা পারাপারেও শুরু হয়েছে নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি। বালি হল্টে যান নিয়ন্ত্রণ করে দুর্ঘটনা রুখতে সম্প্রতি ট্রাফিক পুলিশ এই ধরনেরই কিছু নির্দেশ জারি করেছে। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়েরা।

দশ বছর আগের স্মৃতি এখনও শিহরিত করে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ব্যবসায়ীদের। সেই দিনও সকাল ন’টা নাগাদ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বালি হল্ট সেতুর উপর যাত্রীরা দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের চোখের সামনেই যাত্রী তোলার রেষারেষিতে ৭৯ নম্বর রুটের একটি বাস সেতুর রেলিং ভেঙে নীচের রেললাইনে পড়ে যায়। ঘটনায় এক মহিলা-সহ ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর পর স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ওই সেতুতে সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য একগুচ্ছ প্রকল্প নিয়েছিল। যদিও একটি বাসস্ট্যান্ড করা ছাড়া কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। আরও অভিযোগ, সেতুর উপরে যত্র তত্র দাঁড়াচ্ছিল বাস, অটো।

সম্প্রতি হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক দফতর থেকে একটি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বালি হল্ট সেতুতে যান নিয়ন্ত্রণের। পুলিশ জানায়, বালি স্টেশন থেকে বালি হল্ট সেতুতে উঠতে দু’টি সিঁড়ি রয়েছে। এত দিন উঠেই যাত্রীরা রাস্তার ধারে মর্জিমতো দাঁড়িয়ে পড়তেন বাস ধরতে। বাসও যাত্রী তুলতে দাঁড়াত। তাতে যানজট হত। আবার যাত্রী তোলার লড়াইতে বিপজ্জনকভাবে রেষারেষিও চলছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, সেতুর দু’ধারের ফুটপাথ দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠেই যাতে পথচারী রাস্তায় নামতে না পারেন। ঘেরা ফুটপাথ ধরে যেতে হবে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডে। ফলে যত্র তত্র বাস দাঁড়াচ্ছে না। পুলিশকর্মীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ কোনও নিয়মই মানতে চান না। এক পুলিশ কর্মীর কথায়: “অনেকেই এই নিয়ে ঝগড়া করেন। জোর করে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে বাস ধরার চেষ্টা করেন।”

নিত্যযাত্রী শ্যামল রায় মানছেন পুলিশের এই অভিযোগ। তিনি জানান, পুলিশ অনেক চেষ্টা করে বোঝাতে। যাত্রীরাই শুনতে চান না। নিয়ম ভাঙলেই ফাইন করা উচিত। হাওড়া সিটি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) সুমিত কুমার বলেন, “বালি হল্টে সুশৃঙ্খল যান ব্যবস্থা গড়তে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ওই এলাকায় আরও উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা হবে।”